একটা সময় দলের অটোমেটিক চয়েস ছিলেন। ধীরে ধীরে জায়গা হারিয়েছেন সব ফরম্যাটে। গত মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে আবারও জাতীয় দলে ফিরছেন তিনি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন নাসির।
জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে পারফরম্যান্সই এ অলরাউন্ডারের কাছে শেষ কথা। দলে টিকে থাকতে পারফরম্যান্সকেই সবকিছুর ‘মেডিসিন’ বলে অভিহিত করেন নাসির। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন তিনি।
নাসির বলেন, ‘পারফরম্যান্সই হচ্ছে শেষ কথা। এটা ছাড়া কোথাও টিকে থাকার সুযোগ নেই। পারফরম্যান্সই হচ্ছে সবকিছুর মেডিসিন। আমি চেষ্টা করবো পারফরম্যান্স করার জন্য। সত্য কথা বলতে পরের যে টেস্ট ম্যাচ আছে সেগুলো নিয়ে আমি চিন্তা করছি না। আমি জানি আমি যদি এখানে পারফর্ম করি তাহলে ওইগুলোয় সুযোগ অবশ্যই আসবে। আর আমি যদি ওখানেই পারফরম্যান্স না করি সুযোগগুলো এখানে আসবে না।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে চার-পাঁচে ব্যাট করলেও জাতীয় দলে ছয়-সাতে খেলতে হয় নাসিরকে। আগের মতোই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জটাই থাকছে তার সামনে। ১৭ টেস্ট খেলা এ ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝছি যদি খেলার সুযোগ হয় আমি ছয় কিংবা সাত নম্বরে খেলবো। এই সময়ে আরও দুইজন ব্যাটসম্যান থাকে। বাদ বাকি যারা থাকে তারা টেল অ্যান্ডার। আমার সঙ্গে যখন দুইজন ব্যাটসম্যান আছে তখন চেষ্টা করি ইনিংসটাকে বড় করার জন্য। এরপর বোলাররা চলে আসলে চেষ্টা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিছু রান স্কোর বোর্ডে যোগ করা। আমার পরিকল্পনা এটাই থাকবে।’
শুধু ব্যাটিং নয় জাতীয় দলে অফস্পিনার নাসিরেরও গুরুত্ব অনেক। কঠিন সময়ে অধিনায়কদের ভরসা তিনি। বোলিংয়ে আগের আত্মবিশ্বাসী ২৫ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বোলিংটা আমি উপভোগ করি। আমি চেষ্টা করি ভালো বোলিং করার জন্য। যদি সুযোগ হয় বোলিংয়ের তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো বোলিং দিয়ে কিছু করার।’
বাংলাদেশ দলে এখন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার কয়েকজন। তাই এখানে প্রতিযোগিতাও বেশি। তবে নাসির বলছেন, তার প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গে। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমার কারো সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। আমার প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গেই। যদি আমি পারফর্ম করি অবশ্যই আমি দলে থাকব।’
গত দুই বছরে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র নাসির। তার জাতীয় দলে না থাকা বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিতই ঝড় উঠতো। মানুষের ভালোবাসার বিপরীতে কিছু করে দেখাতে চান নাসির। তিনি বলেন, ‘এটার যতটা ইতিবাচক দিকও আছে ততটা নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এখন আমি যদি পারফরম্যান্স করি অবশ্যই আমার ভক্তদের ভালো লাগবে। আর না করলে সেই জিনিসগুলো অনেক নেতিবাচকভাবে আসবে। চাপতো একটু থাকবেই। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষজন আমাকে ভালোবাসে। তাদের তো কিছু দেওয়া লাগবে।’
ইত্তেফাক/এমআর