রুনির যোগ্যতাকে অবমুল্যায়ন করা হয়েছে: লিনেকার

একজন খেলোয়াড় হিসেবে ওয়েন রুনির সঠিক মূল্যায়ন হয়নি বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তী ফুটবলার গ্যারি লিনেকার। কিশোর বয়সের ক্লাব এভারটনে প্রত্যাবর্তনের পর নতুন করে জ্বলে উঠতে শুরু করেছে রুনি। তার কিশোর বয়সেও ক্লাবটি দারুণ সহায়তা পেয়েছিল। কিন্তু হোসে মরিনহোর অধীনে গিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে অসন্তস্ট হয়েই ফিরতে হয়েছে প্রিমিয়ার লীগে দুইশ’ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
 
এভারটনে ফেরার পর দুই লিগ ম্যাচে অংশ নিয়ে দুটিতেই গোল পেয়েছেন ৩১ বছর বয়সী রুনি। তন্মধ্যে গত সোমবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার দেয়া একমাত্র গোলটি নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে। ওই গোলের সুবাদে প্রিমিয়ার লীগে এ্যালান শিয়ারারের সঙ্গে ২০০ গোল ক্লাবের মাইলফলক স্পর্শ করেন রুনি।
 
এভারটন এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা লিনেকার বলেন, ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসে শীর্ষ ১০ ফুটবলারের তালিকায় রুনিকে স্থান দেয়া উচিত। তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে লিনেকার বলেন, ‘সম্ভবত সেখানেই স্থান নিতে যাচ্ছেন তিনি। তিনি যে ক্যারিয়ার গড়েছেন তাতে ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা দশ ফুটবলারের তালিকায় স্থান পাওয়া উচিত। তিনি ইংলিশ ফুটবলের একজন কিংবদন্তী খেলোয়াড়।’
 
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে ৪৮টি গোল করা লিনেকার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলেও রুনিকে অবহেলা করা হয়েছে। যখনই জাতীয় দলে খেলতে গেছেন তখনই তাকে বোঝা মনে করা হয়েছে। অথচ জাতীয় দলে তিনিই ছিলেন বিশ্ব মানের সেরা তারকা।
 
বার্সেলোনা ও টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে খেলা ৫৬ বছর বয়সি এই ইংলিশ কিংবদন্তী আরো বলেন, ‘তার কারণেই এক সময় ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছড়ি ঘুরিয়েছে। মাঝে মাঝে পুরোপুরি ফিট না থাকা সত্ত্বেও তাকে খেলতে হয়েছে। আবার যখন তিনি পুরো সুস্থ ছিলেন তখন তাকে অনুপযুক্ত মনে করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। যা তার ফর্মে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।’ 
 
রুনির মতই ইংল্যান্ডকে বড় কোন শিরোপা এনে দিতে ব্যর্থ এই ফুটবল গ্রেট বলেন, ২০০৪ সালে পর্তুগালে অনুষ্ঠিত ইউরো টুর্নামেন্টের সময় যদি রুনি ফিট থাকতেন তাহলে অন্য কিছু হতে পারতো। পায়ের হাড় ভাঙ্গার আগে ওই টুর্নামেন্টে চারবার গোল করেছেন রুনি। লিনেকার বলেন, ‘তার ক্যারিয়ারের সূচনা লগ্নের কথা যদি আমরা স্মরণ করি তাহলে তাকে অবশ্যই কিংবদন্তীর কাতারে রাখতে হবে। পর্তুগালে তিনি তা দেখিয়েছেন। তিনি যদি ইনজুরিতে না পড়তেন তাহলে হয়তো আমরাই শিরোপা নিয়ে আসতাম। কারণ তখনকার দলটি দারুণ ছিল।’
 
রুনির প্রতি সমর্থকদের সমর্থনেও ঘাটতি আছে বলে মনে করেন লিনেকার। তিনি বলেন, ‘আমরা বিচারিক সমাজে বসবাস করার কারণে তাকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করিনি। কারণ তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেছেন। ক্লাবের কারণেই বিপুল সংখ্যক ফুটবল অনুরাগী এমনিতেই তাকে অপছন্দ করতে শুরু করেন।’ গোল.কম।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির