স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আগ্রহ কম বেসরকারি ভার্সিটিগুলোর

 
২০১২ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। গত ৫ বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাধিকবার আল্টিমেটাম, সময় বৃদ্ধি করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতির খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এসে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাত্র ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়।
 
সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকার পরও তারা সেখানে পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করেনি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে কর্তৃপক্ষের আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদারনীতির কারণে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে বেসরকারি বিশ্ববিদালয়ের আগ্রহ কম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রভাবের কারণেও আইন বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ধীরনীতি অবলম্বন করছে।
 
সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা বিবেচনায় নতুন করে সময় পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছে। এই সময়ের পর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন তৈরি হওয়ার আগে ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ বলা হয়েছে, ‘এই আইনে যাই থাকুক না  কেন এই আইন কার্যকর হবার পূর্বে সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে সনদ গ্রহণপূর্বক স্থায়ী না হইয়া থাকিলে এই আইন কার্যকর হবার পর উক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধারা ৯ এর শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে সনদপত্র গ্রহণ করিতে হইবে।’ ‘কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের  মধ্যে সনদপত্র গ্রহণ না করিলে উক্ত সময়সীমার পর সরকার উক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতি বাতিল করে উহা বন্ধ করবে।’
 
তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১২টি পুরোপুরি স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর বাইরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ২৪টিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পৃথক পৃথক সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালনা না করলেও অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। এদের মধ্যে কেউ কেউ জমি ক্রয় করলেও কাজ শুরু করেনি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আরো কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
 
সূত্র জানায়, অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস পরিচালনা করলেও সেখানে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী হচ্ছে না। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি সাভারের আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করলেও সেখানে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ধানমন্ডি ও উত্তরায় শিক্ষা কর্যক্রম পরিচালনা করছে। একই অবস্থা ব্রাক ইউনিভার্সিটির। সিটি ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থায়ী সনদ পেয়েছে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানীতেও অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ইউজিসি জানিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পুরোপুরি স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইউজিসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মানারত ইউনিভার্সিটিরও স্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় ১ অক্টোবর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত প্রোগ্রাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
 
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ইস্টডেল্টা ইউনিভার্সিটি ও ডেফোডিল ইউনিভার্সিটিকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়। এই সময়ের পর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়।
 
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে সে আলোকে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে