সিরিজ হেরে যাবার পর অবশেষে ভারত সফরে জয়ের মুখ দেখলো সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ব্যাঙ্গালুরুতে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে ২১ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে অসিরা। উদ্বোধনী জুটিতে ২৩১ রান যোগ করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। এতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় অসিরা। তাই দুই ওপেনারের প্রশংসা করলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে ম্যাচ হারের জন্য বড় জুটি না হওয়াকে দুষলেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় আগেভাগেই নিশ্চিত করে ফেলেছিলো ভারত। সিরিজের শেষ দু’টি ম্যাচ রুপ নেয় নিয়ম রক্ষায়। তারপরও নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মত টানা দশ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিলো ভারতের সামনে। তবে ব্যাঙ্গালুরুতে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ইনিংসের শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। তাদের জুটিতে শতরানের পর ২শও যোগ করে ফেলেন। অবশেষে ২৩১ রানে ভেঙ্গে যায় এই জুটি। ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রান এটি।
IMG0
১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৯৬ বলে ৯৪ রান করে ফিরেন ফিঞ্চ। তবে ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে বিশ্বের অষ্টম খেলোয়াড় হিসেবে ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। শেষ পর্যন্ত ১২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১১৯ বলে ১২৪ রান করেন ওয়ার্নার। এছাড়া শেষদিকে ৩০ বলে ৪৩ রানের ইনিংসে খেলে দলকে ৫ উইকেটে ৩৩৪ রানে পৌঁছে দেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব।
জবাবে শুরুতে ১০৬ রানের জুটি পেলেও পরবর্তীতে বড় জুটি গড়তে পারেনি ভারত। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩১৩ রান পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয় টিম ইন্ডিয়া। দলের পক্ষে কেদার যাদব ৬৭, রোহিত শর্মা ৬৫ ও আজিঙ্কা রাহানে ৫৩ রান করেন।
ম্যাচ জয়ের পর দুই ওপেনার প্রশংসাই করলেন অস্ট্রেলিয়ার দলপতি স্মিথ, ‘জয়টি খুবই চমৎকার ছিলো। শুরুতেই ফিঞ্চ ও ওয়ার্নারের দুর্দান্ত পারফরমেন্স ছিলো। যখনই বাউন্ডারি প্রয়োজন ছিলো, তখনই তা করতে পেরেছে তারা। ৩৩০ রানে দলকে পৌঁছে দেয়ার ভিত তারাই গড়ে দেয়। তবে মাঝে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়েছি আমরা। কিন্তু হ্যান্ডসকম্ব শক্ত হাতে সেটি সামাল দিয়ে দলকে ৩৩৪ রানে নিয়ে গেছে। বোলিং-এ আমাদের আরও ভালো করতে হবে। বিশেষভাবে নতুন বলে। তবে শেষদিকে দারুণ বোলিং করেছে বোলাররা। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের শেষদিকে সেরাটা খেলতে দেয়নি আমাদের বোলাররা।’
IMG1
অন্যদিকে ম্যাচ হারের জন্য বড় জুটি না হওয়াকেই দায়ী করলেন কোহলি, ‘৩০ ওভার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া খুবই ভালো খেলেছে। সাড়ে তিন’শ রান করার সুযোগ তৈরি করে ফেলেছিলো তারা। এরপর আমরা ভালো বল করেছি। অস্ট্রেলিয়াকে ৩৫০-এর নীচে আটকে রেখেছি। ম্যাচ জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী ছিলাম। আমাদের শুরুটাও দুর্দান্ত ছিলো। কিন্তু আমাদের বড় জুটি গড়া প্রয়োজন ছিলো। যা আমরা করতে পারিনি। উমেশ ও সামি ভালো বল করেছে। তবে এ ম্যাচে স্পিনাররা ভালো করতে পারেনি। স্পিনারদের বিপক্ষে ভালো দিন ছিলো না এটি।’
ম্যাচের সেরা ওয়ার্নার বলেন, ‘অনুভূতি চমৎকার। এই জয়ে আমাদের চেহারায় হাসি ফুটেছে। তবে কাজটি কঠিন ছিলো। এটি আমার শততম ম্যাচ ছিলো। এমন ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছি। তাই এই ম্যাচটি অনেক বেশি স্পেশাল।’ নাগপুরে আগামী ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে। বাসস।
ইত্তেফাক/রেজা