জুবায়ের ও তাফসির দুই বন্ধু। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার জন্য কোচিং করছেন তারা। কোচিংয়ের ক্লাস থেকে ফেরার পথে প্রতিদিনই সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস তাদের। রাস্তার ধারের কোনো এক হকারের কাছ থেকে একটা পত্রিকা কিনে এতে চোখ বুলিয়ে নেন তারা। এর মাধ্যমে যেমন প্রতিদিনকার খবরাখবর জানা হচ্ছে তাদের, পাশাপাশি আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতির জন্যও কাজে লাগছে।
ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষই আজকাল অভিযোগ করেন সংবাদপত্রের পাঠক কমে যাচ্ছে। সবাই নাকি সোশ্যাল সাইটেই বেশি ব্যস্ত। কিন্তু, অনলাইনে কিংবা ছাপায়, দু'ক্ষেত্রেই সংবাদপত্র অনেকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। প্রতিদিন সকালে পত্রিকার পাতা না খুলে দিন শুরু হয় না, এরকম পাঠক বা পত্রিকাপিয়াসু মানুষ আছেন অসংখ্য-অগণিত। এদের কাছে ছাপা কাগজটাই বেশি জনপ্রিয়। ভোরবেলা প্রায় প্রত্যেক বাড়ির দরজার সামনেই হকারের ফেলে যাওয়া খবরের কাগজ দেখতে পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী জুবায়ের আহম্মেদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, সাধারণ জ্ঞানের একটা অংশ থাকে সংবাদপত্রে। পরীক্ষায় সাম্প্রতিক নানা বিষয়াবলী থেকে প্রশ্ন আসে, যা নিয়মিত পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে আমরা আয়ত্ত্ব করতে পারছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা আঞ্জুমী নাবিলা বলেন, যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাল করতে হলে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘আমি প্রতিদিন নিয়মিত পত্রিকা পড়ি। সবসময় সংবাদপত্র কিনে পড়া সম্ভব না হলেও অনলাইনে খবরাখবরগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিই। এরমাধ্যমে আমার নিজের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে, সমকালীন নানা খবর সম্পর্কে হালনাগাদ থাকতে পারছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজের শিক্ষার্থী ফারজিয়া হক ফারিন বলেন, পত্রিকা পড়লে সবচেয়ে বড় যে উপকার হয় সেটা হল নিয়মিত কোনোকিছু পড়ার চর্চা। এতে করে বিভিন্ন বই পড়তেও উৎসাহ পাওয়া যায়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস পড়লে বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞানলাভ করা যায়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি সরকারি কলেজে মনোবিজ্ঞানে অনার্স পড়ছেন সোহানুর রহমান। তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে বিসিএস কর্মকর্তা হবেন। তিনি বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি খবরের কাগজ পড়ার চেষ্টা করি। এতে সাম্প্রতিক বিষয় জানতে পারি।
ইত্তেফাক/ইউবি