পর্তুগীজ অনুসন্ধানকারী ভাস্কো দা গামা পঞ্চদশ শতাব্দীতে এক দুঃসাহসিক যাত্রার মধ্য দিয়ে নতুন এক দিগন্তের পথ উন্মোচন করেছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সম্পূর্ণ সাগর পথ পাড়ি দিয়ে ভারতে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার এই ভ্রমণে এশিয়া এবং ইউরোপকে সংযোগ করার পাশাপাশি আটলান্তিক মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ খুঁজে পান তিনি যা যুগান্তকারী এক অধ্যায়ের সূচনা করে। তবে সেই সময়ে সাগর পথে যাত্রা ছিল খুবই দুঃসাহসিক ব্যাপার। যাত্রাপথ ঠিক রাখার জন্য নাবিকদের কাছে পর্যাপ্ত কোন আধুনিক যন্ত্রই ছিল না। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হতো। এমনই একটা দুর্লভ জ্যোতিবিজ্ঞান যন্ত্রের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যন্ত্রটি ‘এসমেরেলদা’ নামের যে জাহাজে ব্যবহূত হতো তা ১৫০৩ সালে সাগরে ডুবেছিল। ভাস্কো দা গামার অভিযানের সাথে যুক্ত ছিল এসমেরেলদা।
বিশেষ এই জ্যোতির্বিজ্ঞান যন্ত্রটি ১৭.৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের এবং ২ মিমি পুরুত্ববিশিষ্ট। ২০১৪ সালে ডেভিড মিরনস নামের এক সমুদ্র গবেষকের নেতৃত্বে পরিচালিত এক উদ্ধার অভিযানে পাওয়া যায় দুর্লভ এই যন্ত্রটি। সেই উদ্ধার অভিযানে তিন হাজারের বেশি যন্ত্রপাতি খুঁজে পান উদ্ধারকারী দলটি। এর মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট এই যন্ত্রটি ছিল সব থেকে মূল্যবান। এই যন্ত্রটির সাহায্য নিয়ে আকাশের চাঁদ-সূর্যের অবস্থানের পর ভিত্তি করে গতিপথ তৈরি করতে পারতেন নাবিকরা।
ধারণা করা হচ্ছে, নৌবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলোর মধ্যে এটি সব থেকে পুরাতন। এই সব কারণেই ঐতিহাসিকভাবে এই যন্ত্রটির মূল্য অনেক বেশি। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের জন্য গবেষণার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে।
সাগরের তলে জাহাজের ভগ্নাংশের মধ্যে অনেক জিনিসের মধ্যে এটিকে খুঁজে পাওয়ার পর প্রথমে তারা বুঝে পারছিল না এটি আসলে কী। কারণ সেটির মধ্যে কোন দিকনির্দেশক চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা ঠিকই বুঝে ফেলেন। পরবর্তীতে এটি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব উদঘাটিত হয়।