আন্তর্জাতিক মানের এমবিএ ডিগ্রি এখন বাংলাদেশেই

২০১৮ সালে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েকশো কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। শুধুমাত্র ভারতেই যাচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। দক্ষ জনশক্তির অভাবেই বাংলাদেশ থেকে প্রচুর ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে বলে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে মিড লেভেল ও টপ লেভেল পদে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হওয়া কর্মীরা চাহিদা মেটাতে পারছে না, ফলে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে এসব কর্মী আমদানি করতে হচ্ছে। আর সেই যোগ্যতার চাহিদা পূরণে প্রোফেশনাল ডিগ্রি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রোফেশনাল ডিগ্রির মধ্যে এমবিএ বা ইএমবিএ ডিগ্রি অন্যতম। এ প্রোগ্রামটি একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে বলে মনে করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এমবিএ ও ইএমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক ড. এম. মামুন আল বশির। 

চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা অতীতেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। চাকরি নামক সোনার হরিনটি একেক জনের কাছে একেকভাবে ধরা দেয়। অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিতে অনেকেই হয়তো সময়ের লাগাম টেনে ধরে পারে না। রেসের ঘোড়ার মতো বেপরোয়া ছুটে অনেকেই হয়তো একটা চাকরি পান, কিন্তু সেটা তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে কতটুকু সহায়তা করবে সেটা দেখার বা বোঝার বিষয়। সেই চাকরিই পেয়ে কতদিনে স্বস্তির পেয়ালায় তৃপ্তির ঢেকুর দিতে পারবেন তাও চিন্তার বিষয়।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমবিএ পড়ার জন্য দুই ধরনের প্রোগ্রাম আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য রেগুলার এমবিএ এবং কর্মজীবীদের জন্য এক্সিকিউটিভ এমবিএ। দুঃখজনক বিষয় হলো- অনেক শিক্ষার্থী চিন্তা করেন বাংলাদেশে থেকে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাজুয়েট ডিগ্রি পাওয়া সম্ভব না, তাই উচ্চ শিক্ষার জন্য তারা বিদেশে পাড়ি জমায়। তবে আশার দিক হলো, বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের আদলে এদেশে এমবিএ বা ইএমবিএ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। তার মধ্যে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অন্যতম। যেখানে কারিকুলাম, টিচিং কোয়ালিটি, রিসার্চ ও স্টুডেন্ট ফ্যাসিলিটি সবকিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাজুয়েট তৈরির চেষ্টা চলছে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা সহজে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে উচ্চ শিক্ষায় বিদেশে গমন করতে পারে। 

এ বিশ্ববিদ্যালয় যেসব গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে তারা ইন্ডাস্ট্রি উপযোগী। তাত্ত্বিক পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাকটিক্যাল নলেজের দিকেও খুব গুরুত্ব দেয়া হয় এখানে। যারা ক্লাস নিচ্ছেন তারা একদিকে একাডেমিক সেক্টরে এক্সপার্ট অপরদিকে ইন্ডাস্ট্রি সেক্টরেও তাদের ব্যাপক দক্ষতা রয়েছে। এমবিএ ও ইএমবিএ’র সব ক্লাস ছুটির দিন নেয়া হয় বলে করপোরেটদের জন্য ক্লাস করা সহজ হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করপোরেট সেক্টরের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অনেক নামকরা বহুজাতিক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাদের কর্মকর্তাদের এখানে এমবিএ ও ইএমবিএ করতে প্রেরণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জন্য ৫০ শতাংশ শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। 

তিনি আরো বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির তেমন কোনো পার্থক্য দেখি না। কারণ আন্তর্জাতিক মানের উচ্চ শিক্ষার স্বাদ এখান থেকে গ্রহণ করতে পারছে গ্রাজুয়েটরা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখ্যযোগ্য শিক্ষক বিদেশি ডিগ্রিধারী, তারা উত্তর আমেরিকা বা ইউরোপের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেয়া এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট। কয়েকটি বহুজাতিক ও দেশীয় সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি এমবিএ ও ইএমবিএ ক্লাস নিচ্ছেন। 

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ ও ইএমবিএ এর অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরাই পড়া অবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির এমবিএ গ্রাজুয়েটরা ইতোমধ্যে চাকরির বাজারে একটি উল্লেখ্যযোগ্য অবস্থান তৈরি করছেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান ও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- এখানে জব হোল্ডার এবং ফ্রেশারদের মধ্যে একটি সেতু বন্ধন হচ্ছে। এমবিএ করতে এসে অনেকেই জব হোল্ডারদের কাছ থেকে বিভিন্ন জব অফার পাচ্ছেন।

ইত্তেফাক/কেকে