বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌননিপীড়নকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত

টানা তৃতীয় দিনের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষক মো. আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর গ্রহণ করছেন।

সকাল থেকে ক্যাম্পাসের গোল চত্বরের পাশে শিক্ষক মো. আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচী শুরু করা হয়। স্বাক্ষর গ্রহণ শুরু হলে শত শত শিক্ষার্থীকে সেখানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এর আগে সোমবার সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অনশন করেন। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে দুপুর ১টার সময় তারা অনশন প্রত্যাহার করে নেন।

জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টা থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অনশন শুরু করেন। অনশনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, 'ঘটনা দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এতদিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন তদন্ত কমিটির নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কালক্ষেপণ করছে'। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে উল্ল্যেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'কোন ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার করা হয় না। এবার অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাছ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে'। তবে দুপুরে বিভাগের শিক্ষক এবং প্রশাসনের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অনশন তুলে নেন।

আরও পড়ুন:  ল্যাপটপ কিনে আমেরিকা যাওয়ার সুযোগ

এর আগে, রবিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষক মো. আক্কাছ আলীকে সাময়িকভাবে সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহিত দেয় প্রশাসন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রহিম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, 'আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি আশা করি খুব দ্রুত তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দিতে পারব। আর সেই পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান করছি। তিনি আরও বলেন, যেই দোষ করুক তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে'।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি