সৌদি আরবে জ্যাজ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল!

সৌদি আরবের একটি শিল্প এলাকায় চলতি বছরের শেষের দিকে জ্যাজ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এটি তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিনোদন ও পর্যটন খাতে মনোযোগ দেয়ার অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার অংশ।
 
ধর্মীয়ভাবে প্রচণ্ড রক্ষণশীল সৌদি আরবে প্রকাশ্যে নাচ গানের আয়োজন বিরল ঘটনা। গত জানুয়ারিতে জেদ্দায় বিগত ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত আরব সংগীতের কনসার্ট আয়োজন করা হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনায় দেশটির ব্যবসায়িক বাতাবরণে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ৩২ বছর বয়সী সালমান পর্যটন ও বিনোদনকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কারণ এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে
 
লোহিত সাগরের উপকূলে জেদ্দার নিকটে কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমার দ্য ইকোনমিক সিটির নির্বাহী প্রধান ফাহদ আল রাশিদ বলেন, তিনি জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে আসতে চান। বিদ্যমান ভিসা আইনে বড় সংখ্যক বিদেশি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও রাশিদের ধারণা সৌদি আরবের স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিউজিক ফেস্টিভ্যালের টিকেটের ব্যাপক আগ্রহ থাকবে। বুধবার সৌদি আরবে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সাইডলাইনে দেয়া এক এক সাক্ষাতকারে রাশিদ বলে, সৌদি আরবে এই ধরণের ইভেন্ট এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতি জনগণের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
 
২০০৫ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক জোনে সৌদি আরবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফ্যাক্টরি নির্মিত হয়েছে এবং সেখানে একটি বন্দর রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৭ হাজারের বেশি মানুষ থাকে এবং ১২০টি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। চলতি বছরে সেখানের বন্দরের ব্যস্ততা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
কিন্তু বর্তমানে এই শিল্প এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে গলফ কোর্স তৈরি হচ্ছে, বিলাসবহুল ইয়ট ব্যবহার করার জন্য নির্মিত হচ্ছে ছোট পোতাশ্রয়। চলতি বছর পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ এসেছে, ২০১৬ সালে এসেছিল ১ লাখ ৭০ হাজার, ২০১৫ সালে ১৫ হাজার।
 
কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক জোনে বর্তমানে দুটি হোস্টেল রয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে সেটি ১০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিদ বলেন, ৩টির ডিজাইন হয়ে গেছে এবং যৌথ বিনিয়োগে আরো দুটি নির্মাণের জন্য চুক্তি সাক্ষর করা হয়েছে। দুবাইভিত্তিক রিয়াল এস্টেট ফার্ম এমার প্রোপার্টিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমার ইকোনমিক সিটির এই শিল্প এলাকা ছাড়াও সৌদি আরবে আরো অনেক শিল্প ও নগর এলাকা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব শহরের সাফল্য কম, এবং তেলের দাম কমতে থাকায় দেশটির অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 
গত বছর সৌদি সরকার জানায়, তারা কয়েকটি ইকোনমিক সিটির পরিকল্পনায় সংশোধন নিয়ে আসে। তাদের মতে সেটি না হলে ঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে জিজান ইকোনমিক সিটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হয়। এমার দ্য ইকোনমিক সিটির প্রধান নির্বাহী রাশিদ বলেন, সৌদি আবাসন মন্ত্রণালয়, বিনোদন কমিশন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, বেসরকারি খাত যদি ভাবে যে তেলের দাম আবার বেড়ে সব ঠিক হয়ে যাবে তাহলে ভুল হবে। এটাই হবে স্বাভাবিক নিয়ম।   
 
ইত্তেফাক/সাব্বির