ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী রবিবার ইয়েমেনের সানায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিন ইয়েমেন সরকারের শক্ত ঘাঁটি এডেনে নিরাপত্তা সদর দপ্তরে গাড়িবোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরুর পর রবিবারই সানা প্রদেশে সবচেয়ে বেশিবার বিমান হামলা চালানো হয়। হুতি নিয়ন্ত্রিত সাবা বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সানা প্রদেশে মোট ২৯ টি বিমান হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে রাজধানী সানায় ১৫টি এবং সিনহান ও বাহলৌল জেলায় ১৪টি হামলা চালানো হয়। সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল আল-সাবিন স্কোয়ার, যেটিকে হুতি বিদ্রোহীরা সামরিক প্যারেডের জন্য ব্যাবহার করে থাকে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রপতি ভবন, জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করেও বিমান হামলা চালানো হয়।
রাজধানীভিত্তিক একজন কর্মী ফাতিক আল-রোদাইনি জানান, ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্য ইয়েমেনের পুরনো শহরকে কেন্দ্র করেও বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। রবিবারের বিমান হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ দিন।’ ফাতিক বলেন, ‘সৌদিরা আমাদের শিশু, আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের জীবনকে গ্রাহ্য করছে না। সরকারি ভবনের খুব কাছেই বেসামরিক মানুষেরা বসবাস করেÑ এটা জানা সত্ত্বেও তারা অব্যাহতভাবে হামলা চালায়। তারা কোনো কিছুকেই পাত্তা দেয় না।’
হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করার একদিন পর সানায় ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে শনিবার সৌদি আরবের সীমান্তের ওপর দিয়ে ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম, এমন একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুতি বিদ্রোহীরা।
এদিকে ইয়েমেন সরকারের শক্ত ঘাঁটি এডেনে নিরাপত্তা সদর দপ্তরে এক হামলায় অন্তত পাঁচজন সৈন্য নিহত হয়েছে। রবিবার হুতি বিদ্রোহী পরিচালিত টিভি আল মাশিরা জানায়, পূর্ববর্তী সংঘাতের জের ধরে এডেনের খোরমাকশার জেলায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিচালকের গাড়িবহরের সামনে বোমাটি বিস্ফোরিত হয় বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিচালককে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলায় তিনি অক্ষত রয়েছেন। এ হামলার জন্য কারা দায়ী, তা এখনো জানা যায়নি। আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/সাব্বির