জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে গত ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস এক আনন্দ অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে। রবিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোর স্থায়ী প্রতিনিধি কাজী ইমতিয়াজ হোসাইন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত করা হয়।দিবসটি উদযাপনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীও পাঠ করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক দলিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণই সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে উজ্জীবিত করেছিল।এই একটি ভাষণই সারাবিশ্বে বাঙ্গালীদের মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গুণাবলী ও দেশের জন্য তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রশংসাও করেন তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কোর ডিরেক্টর জেনারেলসহ অন্যান্যদের ধন্যবাদ জানান। বিপুল সংখ্যক কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবাসীদের কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সব শেষে আগত অতিথিদের বাংলাদেশি খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।
ইত্তেফাক/সাব্বির