মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শর্ত ছাড়াই ‘যে কোনো সময়’ আলোচনার কথা বললেও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, অবস্থান পরিবর্তন না করলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কোনো ধরণের আলোচনা হবে না।
বুধবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, সম্প্রতি একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া, তাই আলোচনার জন্য এটি সঠিক সময় হতে পারে না।’ এদিকে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সংকট সমাধানের উপায় বের করতে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন।
টিলারসনের অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই বলে আসছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যেকোনো আলোচনা শুরুর আগে পিয়ংইয়ংকে অবশ্যই তার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আটলান্টিক পলিসি ফোরামের সম্মেলনে টিলারসন উত্তর কোরিয়া বিষয়ে মার্কিন নীতি নমনীয় করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘উত্তর কোরিয়া যা নিয়ে কথা বলতে চাইবে যুক্তরাষ্ট্র বিনা শর্তে যে কোনো সময় তা নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত।’
বুধবার হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যেকোনো ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পরিকল্পনার কথাই পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, প্রশাসন একতাবদ্ধ, যতক্ষণ পর্যন্ত (উত্তর কোরিয়ার) শাসকদের আচরণে মৌলিক উন্নতি দেখা না যায়, যে কোনো ধরণের আলোচনার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ের্তও একই ধরণের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আলোচনার জন্য উত্তর কোরিয়াকে অবশ্যই অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। মুখপাত্রের এই বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসন যে পিয়ংইয়ংয়ের বিষয়ে আগের অবস্থানেই আছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, উত্তর কোরিয়াসহ পররাষ্ট্র নীতির বিভিন্ন বিষয়ে টিলারসনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূরত্ব আছে এবং প্রশাসনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রভাব কমছে তা নিয়ে এর আগেও ধারণা দিয়েছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সংকট সমাধানের উপায় বের করতে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে করেন। উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে বেইজিং ও সিউলের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। মুনের অফিস থেকে বলা হয়েছে, এই সফরে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আশা করছেন। বিবিসি ও রয়টার্স।
ইত্তেফাক/সাব্বির