মিয়ানমারে গ্রেফতার রয়টার্সের ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আইনে ব্যবস্থা

মিয়ানমারে গ্রেফতার হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও। অং সান সু চির মুখপাত্র জাও তাই বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে এবং তিনি সেটিতে অনুমোদন দিয়েছেন।
 
গত মঙ্গলবারে ইয়াঙ্গুনে পুলিশের নিমন্ত্রণে তাদের কার্যালয়ে গেলে ৩১ বছর বয়সী ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে উকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া দুই সাংবাদিক রয়টার্সের রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকট কাভারেজে সংশ্লিষ্ট কাজ করে আসছিলেন। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় দুই সাংবাদিকের ছবি প্রকাশ করে বলে, এই দুইজন বেআইনি ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে সেটা বিদেশি গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করার পায়তারা করছিল। ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।
 
একই আইনে পুলিশের ক্যাপ্টেন মোয়ে ইয়ান নাইং ও সার্জেন্ট খিন মাউং লিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে জানা যায়নি তাদের বিরুদ্ধেও মামলার অনুমোদন পাওয়া গেছে কি না। ঘটনার পরে দুই সাংবাদিকের সঙ্গে তাদের পরিবার কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার ওয়া লোনের স্ত্রীকে পুলিশ বলেছে, তাদের তাউন্ট কিয়ান্ত পুলিশ স্টেশন থেকে একটি গোপন জায়গায় নেয়া হয়েছে তাদের। তখন বলা হয়েছিল তাদের দুই তিন দিনের মধ্যে থানায় নিয়ে আসা হবে, কিন্তু ছয়দিনেও জানা যায়নি তারা এখন কোথায়।   
 
২০১৫ সালের নির্বাচনে জেতার পরেও সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি, তিনি স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিশ্বস্ত তিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, জাতিসংঘ মহাসচিক অ্যান্তোনিও গুতেরেস, রয়টার্সের এডিটর ইন চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক কম্যুনিটি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা এই গ্রেফতারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হামলা বলে অভিহিত করে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্সকে সু চির মুখপাত্র বলেছেন, আপনাদের সাংবাদিকদের অধিকার আইনের শাসন দ্বারা সুরক্ষিত। আমি শুধু এটা বলতে পারি সরকার আইনের শাসনের গ্যারান্টি দিচ্ছে। রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির