রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে গ্রীসে বাংলাদেশ দূতাবাসে পালন করা হল আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০১৭। দিবসটি উপলক্ষে প্রবাসীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন এবং রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী মিসেস শায়লা পারভীন। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসীদের সম্মানিত করার লক্ষ্যে গত বছর হতে বাংলাদেশ দূতাবাস এ পুরস্কার প্রদান করে আসছে। প্রবাসীরা বিপুল উৎসাহের সাথে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসীরা আমাদের গর্ব। দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের অবদানে স্বীকৃতি প্রদান করতে পেরে বাংলাদেশ দূতাবাস অত্যন্ত গর্বিত। রাষ্ট্রদূত আশা ব্যক্ত করেন যে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে এ পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে প্রবাসীদের অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এই ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের কাউন্সিলর ড. সৈয়দা ফারহানা নূর চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব সুজন দেবনাথ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়।
IMG0
এ বছর দূতাবাস সাড়ম্ভরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালনের উদ্দেশ্যে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করে। ৯ই ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে দেশ গঠনে অভিবাসী নারীর ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান এবং অভিবাসী নতুন প্রজন্মই দেশের উন্নয়নে অধিকতর ভূমিকা রাখছে বিষয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এই সব অনুষ্ঠান গ্রীসে বসবাসকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী এবং নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
গ্রীসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক প্রবর্তিত আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পুরস্কারে গ্রীস থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন মোহাম্মদ শামসুল আলম। সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্যান্যরা হলেন কাজী আলমাস, মজিবুর ইসলাম, আব্দুল মান্নান আকন্দ এবং এম.এ. সামাদ। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের মধ্যে ১৭ জনকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন অনলাইনে বাংলায় গ্রীক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন । উল্লেখ্য, গত দুই বছর যাবৎ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনা ফিতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে গ্রীক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কর্মব্যস্ততা থাকায় ও দূরত্বের কারণে সকল প্রবাসী বাংলাদেশির পক্ষে সে সুযোগ গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় এবং গ্রীসে বসবাসের জন্য ভাষাই উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হওয়ায় দূতাবাস অনলাইননে বাংলায় গ্রীক ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম গ্রহণ করে। উক্ত কার্যক্রমে দু’জন প্রবাসী নারী, শেখ শাহীন আক্তার এবং কাজী রিজওয়ানা বেগম হ্যাপি অংশগ্রহণ করেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর