আসছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। যার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যা তরুণ। গত ১০ বছরে তরুণ ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ। এর অর্থ হচ্ছে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তারা যে দিকে ঝুঁকবে সেদিককার বিজয়ের পাল্লাটা যে ভারী থাকবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।এখন বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে তরুণদের চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তথা প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করতে হবে।
বর্তমানে তরুণদের সবচেয়ে বড় চাওয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে— এক. বেকারত্ব দূরীকরণ, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে তারা ক্ষমতায় গেলে কিভাবে স্বল্প সময়ে এই বেকারত্বের পাপ থেকে তরুণদের উদ্ধার করবে। আইএলও-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বেকারের সংখ্যা চার কোটি ছেচল্লিশ লাখ। যা কখনোই কাম্য নয়। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইলে অবশ্যই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।
দুই. দেশের সকল সেক্টরে বিশেষ করে পাবলিক সার্ভিসে যাতে একশ ভাগ মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ হয়, এটাও একটা বড় চাওয়া বর্তমান তরুণ প্রজন্মের।
তিন. আমাদের সংবিধানে আইনের শাসন তথা আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা থাকলেও বাস্তবে অনেক ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যায়। দেশে একশ ভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকা তরুণদের আরেকটি অন্যতম চাওয়া।
চার. বর্তমান প্রচলিত আংশিক ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে দেশে একশ ভাগ কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় অপ্রয়োজনীয়, সেকেলে বিষয়গুলো ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে যুগোপযোগী বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সর্বোপরি দেশে সবসময় যেনো একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান থাকে এটাই সবচেয়ে বড় চাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বর্তমান তরুণ সমাজের।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়