হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ‘জেরুজালেম রক্ষা করতে ব্যর্থতার’ অভিযোগ এনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে এমন কথা বলল আইএস। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও ডেইলি মেইলের।
এক ভিডিও বার্তায় মিসরের সিনাই উপদ্বীপে তত্পর আইএসের মুখপাত্র আবু কাসেম আল-মাকদিসি হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ভিডিওতে মাকদিসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও এই পবিত্র নগরীকে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে হামাস।’ বিশ্বব্যাপী জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট সাইট ইন্টিলিজেন্সে ভিডিওটি প্রকাশ হয়। ২২ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের পোশাক পরিহিত এক বন্দিকে চোখ বেঁধে নিচু করে বসিয়ে রেখে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আইএসের দাবি, ওই ব্যক্তি হামাসের সামরিক শাখাকে সহযোগিতা করেছিল।
আল-মাকদিসি তার সহযোগীদের ফিলিস্তিনের গাজায় গিয়ে হামাসের সব স্থাপনায় হামলা চালানোর আহ্বান জানান। তিনি হামাসকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা পশ্চিমা দেশগুলোর দোসরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং কেবল ইসরাইলি ইহুদিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তিনি বলেন, ‘হামাসের কাছে কখনোই আত্মসমর্পণ করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, সাইলেন্সড পিস্তল এবং বোমা ব্যবহার করা হবে। তাদের আদালত ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালানো হবে। কারণ, এগুলো তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার মূল চালিকাশক্তি।’
প্রসঙ্গত, ইরাক, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত ইসরাইল ইস্যুতে নীরব থেকেছে আইএস। আইএসের হামলার আশঙ্কায় থাকা দেশগুলোর মতো ইসরাইলকে এ বিষয়ে উদ্বিগ্নও মনে হয় না। গত বছর ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তার ওই স্বীকৃতির পর এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। ৮ ডিসেম্বর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে এখন পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে।
ইত্তেফাক/আনিসুর