অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছেলেদের সেমিফাইনাল একরকম এক তরফাভাবেই শেষ হয়। তবে মেয়েদের এককে শেষ চারের লড়াইয়ে। প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন অ্যাঞ্জেলিক কার্বারকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লড়ে হারান সিমোনা হ্যালেপ। ফল রোমানিয়ার তারকার পক্ষে ৬-৩, ৪-৬, ৯-৭। দু’বারের ফরাসি ওপেন রানার্স দু’বার ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে জেতেন। শনিবার ফাইনালে তাঁর মুখোমুখি ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। প্রাক্তন বিশ্বসেরা ড্যানিশ তারকা এখনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেননি। হ্যালেপও তাই। প্রথম সেমিফাইনালে ওজনিয়াকি সরাসরি সেটে হারান এলিস মার্টেন্সকে। ৬-৩, ৭-৬ (৭-২)। ফাইনালে ওজনিয়াকি যদি জিততে পারেন তা হলে তিনিই এক নম্বরের সিংহাসনে বসবেন হ্যালেপকে সরিয়ে।
মেলবোর্ন পার্কে আজ মেয়েদের সেমিফাইনালের দিকেই নজর ছিল অনেকেরই। বিশ্বের এক নম্বর হালেপ যেভাবে দাপট দেখিয়ে এসেছেন সেটা কার্বার থামাতে পারেন কি না দেখার ছিল। যে কার্বার আবার মারিয়া শারাপোভাকে ছিটকে দিয়েছিলেন। প্রথম থেকেই ম্যাচে দাপট ছিল হালেপেরই। প্রথম সেট জিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় সেটে কার্বার ঘুরে দাঁড়ালেও তৃতীয় সেটে হালেপ ৫-৪ এগিয়ে থাকার সময় দুটো ম্যাচ পয়েন্টের সামনে চলে আসেন। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর। দু’টো গেমের পরে পরিস্থিতি উল্টে যায়। হালেপকেই তখন ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচাতে হতো না হারতে। শেষ পর্যন্ত দুরন্ত ফোরহ্যান্ডে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে চার নম্বর প্রয়াসে ম্যাচও দখল করে নেন তিনি।
ম্যাচের পরে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে উঠে হালেপ বলেন, ‘খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। আমি এখনও উত্তেজনায় কাঁপছি। আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘জানতাম চ্যালেঞ্জটা সোজা হবে না। অ্যাঞ্জেলিক খুব কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী। কোর্টে খুব ভাল মুভ করছে, কোর্টে যে কোনও জায়গা থেকে হিট করতে পারছে, সবাইকে ধন্যবাদ আমাকে এ ভাবে সমর্থন করার জন্য।’
এক সময়ে পিছিয়ে গিয়েও তিনি যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছেন ম্যাচে সেটাই সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট করছে হালেপকে। তিনি বলেন, ‘আমি যে হাল ছেড়ে দিইনি এটাই সবচেয়ে বড় কথা। যদি লড়াই না ছাড়েন আপনি জিততে পারেন। নিজের উপরে তাই গর্বিত।’
ইত্তেফাক/কেআই