ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। দেশের মাটিতে পনের মাস পর ওয়ানডে খেললেও সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে অপ্রতিরোধ্যই ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। কিন্তু ফাইনালের আগে মুদ্রার ওপিঠ দেখেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের হারটাকে ফাইনালের আগে ‘শাপেবর’ হিসেবেই দেখছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফাইনালের আগে নির্ভার হওয়ার চেয়ে কিছুটা চাপ, চিন্তাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
৮২ রানে অলআউট হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রফি জয়ের মঞ্চে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের হার ভারসাম্য তৈরি করেছে টুর্নামেন্টে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘যেভাবে আমরা হেরেছি ওটা অবশ্যই আমাদের জন্য খুব স্বস্তির বিষয় ছিল না। যে পরিস্থিতি ছিল দুশো করলে অন্যরকম হতো। আর হ্যাঁ, ফাইনালের আগে এমনিতেই চাপ থাকবে। ফাইনালের আগে হারায় ওইদিক থেকে সমতায় এসেছে।’
শেষ ম্যাচের হারকে তাই ইতিবাচকভাবেই দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘সবাই আরেকটু চিন্তায় থাকতে পারে মাঠে। এটাকে আমি ভালোভাবে দেখি কারণ এতে সবাই আরও সতর্ক থাকবে। মানুষ সব সময় চায় না যে নির্ভার থাকতে। নির্ভার থাকা কিন্তু অনেক সময় পারফর্ম করতে অসুবিধাও করে। চিন্তিত থাকা অনেক সময় কাজে দেয়। এই দিক থেকে কালকের (বৃহস্পতিবার) হারটা আমাদের কাছে ইতিবাচক হিসেবে এসেছে।’
দুঃস্বপ্নের ব্যাটিং ভুলে আজ ফাইনালে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে চায় মাশরাফির দল। তবে শেষ ম্যাচের দারুণ জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালোই চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে তামিম-সাকিবদের। তাই লঙ্কানদের প্রতিও সমীহ থাকছে মাশরাফির।
তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা দল অবশ্যই জিম্বাবুয়ে থেকে আরও বেশি পেশাদার এবং তাদের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ। আমি মনে করি শ্রীলঙ্কা যেটা করেছে তাদের দিক থেকে তা আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। আমাদের হারের ধরন নিয়ে বলছি না। কিন্তু তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে আমরা জানতাম। তাদের কিছু প্লেয়ার আছে যারা বিশ্বকাপ ফাইনালও খেলেছে। তাদের থেকে আপনি প্রত্যাশা করবেন যেকোন পরিস্থিতিতে তারা ভালো খেলতে পারে। যেটা হয়ত আমাদের দলে অনেকের ১০-১২ বছর খেলার পরও ওই অভিজ্ঞতা নাই।’
ফাইনালে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে বরং ভুলের সংখ্যা কমিয়ে এনে ব্যাটিং, বোলিং দুই বিভাগেই ভালো শুরুর আশা করছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। আর এর মাধ্যমেই ফইনালের তথাকথিত চাপ কমিয়ে আনার সুযোগ দেখছেন তিনি।
ইত্তেফাক/কেআই