৬ আসনের সব কেন্দ্রে ভোট হবে ইভিএমে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ নভেম্বর দৈবচয়নের ভিত্তিতে এসব আসন চূড়ান্ত করা হবে। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভায় জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ভোটের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও ইসি সচিবালয় থেকে সর্বোচ্চ ৯৬টি এবং সর্বনিম্ন ৪৮টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব ছিল। তবে সিইসির তীব্র বিরোধিতার কারণে ৬টি আসনে পূর্ণাঙ্গ ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী, আইসিটি বিভাগ ও কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে কমিশন। যে কোনো কারিগরি বিষয়ে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে। এ ছাড়াও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্ব-পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ইসির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সভায় নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহার বিষয়ক কমিটি জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ৪৮টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমএ ভোট গ্রহণের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা একটি আসনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেন । পরে সভায় সিটি করপোরেশন বা শহর এলাকার ৬টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএম-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়।

কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, সিটি করপোরেশন ও শহর এলাকায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট নেওয়া হবে। কমপক্ষে ৯০০টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।

কিসের ভিত্তিতে ৬টি আসনে ইভিএম ব্যবহারে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রগুলোর  সার্বিক অবস্থা, প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তাদের সক্ষমতা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণ নির্বাচন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের  সংমিশ্রণে ইভিএম পরিচালনা করা হবে। এজন্য রবিবার (আজ ২৫ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এ সেনা সদস্যরা  যার যার বিভাগে গিয়ে আরও সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন। ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের এ সদস্যরা টেকনিক্যাল সাপোর্টও দেবে।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো ইভিএমের ব্যাপারে আপত্তি করেছে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, বিরোধিতা করা নির্বাচন কমিশনার সভায় কোনো মত দেননি। এটাকে সম্মতি হিসেবে ধরে নিয়েছে কমিশন।

আঙ্গুলের ছাপ না মিললে ইভিএমের মাধ্যমে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কত শতাংশ ভোট ম্যানুয়ালি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবেন— জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কমিশন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রিজাইডিং অফিসার ২৫ ভাগ ভোট প্রদানের ক্ষমতার অধিকারী হবে। ইভিএমের ব্যবহার হলে ঐক্যফ্রন্টের মামলার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা করলে পরে দেখা যাবে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা বা কথা বলার সুযোগ নেই। কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে কমিশন।

উল্লেখ্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচনে প্রচলিত ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহার করতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত করে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব গত ২৯ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন হয়। এরপর  এটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়েছে। এ ছাড়া দেড় লাখ ইভিএম সংগ্রহের জন্য ৩৮২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে।

জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগ করে প্রার্থী হবেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে পদত্যাগ করতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। একই সঙ্গে সরকারি সুবিধাভোগীদেরও পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এই সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছেন, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অফিস, প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কর্তৃপক্ষ এবং বিদেশে অবস্থিত মিশনসমূহে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে কিনা— সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করেছেন প্রার্থী ইচ্ছুকরা। তা ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্টিকরণের অনুরোধ জানানো হয়। জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তারা ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে নবম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাইয়ে ও আপিলে সিটি করপোরেশন মেয়র, পৌরসভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদে থেকে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের অযোগ্য করা হয়েছিল।