নিখোঁজ হলেন ঢাকায় মুক্তিপণের টাকা উঠল চট্টগ্রামে

যশোরের বিএনপি নেতা আবু বকরের মুক্তিপণ আদায় হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকে। মুক্তিপণ চেয়ে তার পরিবারের কাছে দেয়া বিকাশ নম্বরগুলো চট্টগ্রামে ব্যবহূত হয়। ১৯ নভেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দুপুর দেড়টার মধ্যে চট্টগ্রামে বিকাশের দুইটি নম্বর থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্তিপণের এই টাকা কারা উত্তোলন করেছে— সে বিষয়টি গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। গোয়েন্দারা ধারণা করছে, আবু বকরের মৃত্যু রহস্যের সঙ্গে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের ঘটনাটির কোন যোগসূত্র থাকতে পারে। বিজয়নগরে হোটেল মেট্রোপলিটন থেকে বের হওয়ার সময় কারা ওই হোটেলে আগে থেকে অনুসরণ করছিলেন-তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান বলেন, রাজধানীর শাহবাগ থানা থেকে পাঠানো নিহতের পরিবারের অভিযোগপত্রটি তারা পেয়েছেন। তবে বাদী ছাড়া মামলা রুজু করা হবে না। বাদী থানায় আসার পর মামলা নেওয়া হবে।

এর আগে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, আবু বকরের লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা। লাশ উদ্ধারের পর ওই থানায় অপমৃত্যু মামলাও হয়েছে। একই ঘটনায় তো দুই থানায় মামলা হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া শাহবাগ থানা এলাকার কোনো ঘটনাও নয় এটি। তাই অভিযোগপত্রটি শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল আবু বকরের ভাতিজা হুমায়ন কবির বলেন, তারা থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করবে। আবু বকরকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা চেয়ে কারা ফোন দিয়েছিল—সে বিষয়টি তদন্ত করলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই মূহুর্তে তারা যশোরে অবস্থান করছেন। ঢাকায় এসে তারা হত্যার অভিযোগ দিবেন।

১৯ নভেম্বর দুপুরে খবর পেয়ে বুড়িগঙ্গার চর-খেজুরবাগ বেবী সাহেব ডকইয়ার্ড সংলগ্ন পানিতে ভাসমান অবস্থায় একজনের লাশ অজ্ঞাত হিসাবে উদ্ধার করা হয়। তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও গেঞ্জি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মিটফোর্ড মর্গে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে মৃতের আত্মীয় স্বজনরা মিটফোর্ড মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবু বকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকা আসেন। নয়াপল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের চতুর্থতলায় ৪১৩ নম্বর রুমে উঠেন। সেখান থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেন ও জমা দেন। হোটেলের রেজিস্ট্রার বই অনুযায়ী তিনি ১৪ নভেম্বর হোটেল থেকে চলে যান। ১৫ নভেম্বর হোটেলে আবারও ওঠেন। ১৮ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে তার সঙ্গী মজিদপুর ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম ওষুধ কিনে ফিরে এসে তাকে আর রুমে পাননি। রাত পৌনে ৯টার দিকে তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে অবস্থানরত তার এক ভাগ্নের মোবাইলে কয়েকবার মিসকল আসে। প্রত্যেকবার ব্যাক কলে শুধু হ্যালো হ্যালো ছাড়া কোনো কথা হয়নি। এরপর ০৯৬৩৮৮৮৮২০২ নম্বর মোবাইল থেকে ওই ভাগ্নের কাছে ফোন দিয়ে তার মামার জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এজন্য ওই রাতে কয়েকটি বিকাশ নম্বরও সরবরাহ করে তারা। কিন্তু রাত ১২টার পর বিকাশের লেনদেন বন্ধ থাকায় পরদিন সকালে অপহরণকারীরা ০১৭৪৮১১০৫৭৭ নম্বর মোবাইল থেকে পুনরায় যোগাযোগ করে। এরপর তাদের দেয়া বিভিন্ন নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে অপহরণকারীরা দেড় লাখ টাকার প্রাপ্তিস্বীকার করে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। বহু অনুরোধের পর অপহরণকারীরা ২০ হাজার টাকা বিকাশ করার জন্য দুটি নম্বর সরবরাহ করে বলেন, ওই টাকা পাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে আবু বকর আবুকে ওই হোটেলের সামনে ছেড়ে আসা হবে। সাড়ে ১০টার দিকে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করার পরও তাকে ছাড়া হয়নি এবং তারা আর মোবাইল রিসিভ করেনি। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অপহরণকারীদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আবু বকর আবুর মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। রাজধানীর বিজয়নগরে মেট্রোপলিটন হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের দৃশ্য অনুযায়ী রবিবার রাত ৮ টা ৩৪ মিনিটে আবু বকর আবু হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। হোটেল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দুই ব্যক্তি অনুসরণ করছিলেন। এই দুই ব্যক্তি কারা-তা পুলিশ তদন্ত করছে।