ব্যাটিংয়ে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টায় মুশফিক

‘বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান’—মুশফিকুর রহিমের নামের সঙ্গে এ তকমা কয়েক বছর ধরেই উচ্চারিত হচ্ছে। কিন্তু এ সময়টাতে দলে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হয়ে উঠছিল না তার। ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কিপিং, অধিনায়কত্বের বড় দায়িত্ব থাকতো মুশফিকের কাঁধে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে শুধু ব্যাটসম্যান মুশফিককে পাচ্ছে বাংলাদেশ।
 
নেতৃত্ব হারালেও ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি এখন অনেক পরিণত। ত্রিদেশীয় সিরিজে একটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে খেলেছেন ৯২ রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগ পার করে দেওয়া মুশফিক এবার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে চান। খেলতে চান বড় ইনিংস। আগের চেয়ে বেশি রান করার টার্গেট করছেন সদ্য পিতা হওয়া সাবেক এ অধিনায়ক। তবে সঙ্গে যোগ হয়েছে দলে টিকে থাকতে পারফর্ম করার তাগিদও।  
 
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং নিয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘চাপতো একটু থাকেই। অধিনায়ক হলে দলে অটোমেটিক চয়েজে থাকা যায়। সেখানে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে থাকলে অবশ্যই পারফরম্যান্স করতে হবে। গত টেস্টে আমি চেষ্টা করেছি আমার দলকে সেরাটা দিতে। দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্ভাগা বলবো, বলটা খুব বেশি ভালোও ছিল না। তারপরও চেষ্টা করেছি। সামনের ম্যাচে চেষ্টা করবো আরও বেশি বেশি রান করার।’
 
২০১১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন মুশফিক। তারপর তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে সীমিত ওভারের নেতৃত্ব হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। ৩৪ টেস্টে সাতটি জয়, নয়টি ড্র ছিল মুশফিকের যুগে। ৩৭ ওয়ানডে ম্যাচে ১১টি জয়, ২৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন আটটি জয়।
 
কিপিং, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব চলে যাওয়ায় এখন মুশফিকের ব্যাটিং সত্তার আরও বিকাশ ঘটতে পারে। টেকনিক্যাল থেকেও জমাট তার ব্যাটিং। শুধু ব্যাটসম্যানের দায়িত্বটাও উপভোগ করছেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘আগে দায়িত্ব ছিল কয়েকটা, এখন একটা। সব সময়ই চেষ্টা থাকে সকল দায়িত্বগুলো পালন করার। অধিনায়ক থেকে কিপিং করেও অনেক সময় রান পেয়েছি, আবার অনেক সময় শূন্য রানে আউট হয়েছি।  আবার একটি দায়িত্বে থেকেও পারিনি। আমার মনে হয় এই পরিস্থিতিটা সাধারণ।’
 
সব পরিস্থিতিতেই মানিয়ে নিতে চান মুশফিক। তিনি বলেন, ‘যখন যে পরিস্থিতি আসবে, সেই পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি সেটাই এখন চেষ্টা করছি। আমার ভালোই লাগছে। আমি খুব উপভোগ করছি।’
 
ওয়ানডে ও টেস্টে পাঁচটি করে সেঞ্চুরি করা মুশফিক শুভকামনা জানিয়েছেন টেস্টে নিয়মিত করা লিটন দাসের প্রতি। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই এনজয় করি (কিপিং)। কিপিং করলে পিছন থেকে সবকিছু বোঝা যায়। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং না করলে, আগেই উইকেট বোঝা যায়। সে দিক থেকে বলবো হ্যাঁ, একটু নতুনত্ব আছে। আমি এটা নিয়ে খুশি। লিটন ব্যাটিং ভালো করছে। কিপিংও ভালো হচ্ছে। আমি মনে করি, ইনশাল্লাহ সামনের আট দশ বছর সে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিবে।’
 
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন মুশফিক। মিরপুরে আগামীকাল শুরু হতে চলা দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ভালো কিছু আশা করছেন মুশফিক। এ মাঠে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়টা প্রেরণা যোগাচ্ছে ৩০ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারকে। উইকেট যাই হোক সেখানে মানিয়ে নিয়ে নিজের স্কিলের সঠিক প্রয়োগ দেখতে চান তিনি।
 
ইত্তেফাক/কেআই