সরকার চলতি বছর ১০ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সরকার চলতি বছর পর্যায়ক্রমে দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশে ১০ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেবে। শুধু নিয়োগ দিয়েই শেষ হবে না। তাদেরকে পদায়নও করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর লা-মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোার মধ্যে অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব হাসপাতাল গত পর্যায়েও শীর্ষে অবস্থান করেছিল তারা এবারও তালিকায় রয়েছে। দেশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোকেও এর আওতায় আনতে হবে। তবে তালিকায় শুধু শীর্ষে থাকলেই হবে না। তাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তালিকায় স্থান পাওয়া হাসপাতালগুলোর সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য তিনি আকস্মিক পরিদর্শন করবেন বলে ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সম্প্রতি সারা দেশে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়ার পর সংকট কেটে গেছে। এখন চিকিত্সক সংকট কাটাতে অচিরেই ৫ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হবে। আগামি নির্বাচনের আগে অর্থাত্ চলতি বছরের মধ্যে ১০ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ এবং তাদেরকে পদায়ন করা হবে বলে জোর দেন তিনি। হাসপাতাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ না থাকলেও সেখানে কাজ করা যায় না। একজন রোগীর সঙ্গে তিনজন করে স্বজন থাকছে। এ কারণে টয়লেট থেকে শুরু করে কোথাও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না। স্বজনরা রোগীর বিছানায় এক সঙ্গে খাবারও খাচ্ছেন। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। বিশাল জনবল শূন্য থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত সেবা দেয়া যাচ্ছে না। শুধু লোক থাকলেই হবে না। তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য তারা পরিচালনা করছেন তাদের ভূমিকা বেশি নিতে হবে। একজন নেতৃত্ব দিয়ে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি ঝিকরগাছা ও যশোরের কেবশপুর হাসপাতালের উদাহরণ দেন।

‘প্রশ্ন ফাঁস কেন বন্ধ হবে না’

প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন বন্ধ হবে না- এমন প্রশ্ন রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এখন বেশ ঢালাওভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। কই, মেডিকেলের প্রশ্ন তো ফাঁস হচ্ছে না! একজনও বলতে পারবে না মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস হয়! এখন আবার বলা হচ্ছে, প্রশ্ন ফাঁস নাকি বন্ধ করা সম্ভব না। এটা কোনো কথা হলো! কেন প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হবে না?  তিনি আরো বলেন, আদালতকে বুঝতে হবে, কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। অবশ্যই কোনো ফাঁক-ফোকর রয়েছে। মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মেধাবী ছাত্ররা মেডিক্যাল পরীক্ষা দিয়ে ডাক্তার হয়। মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

ইত্তেফাক/নূহু