টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফিকে ফেরানোর চেষ্টা

 
চাপের মুখে অবসরে যেতে বাধ্য করানোর এক বছর না পার হতেই আবার মাশরাফি বিন মুর্তজার দ্বারস্থ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে মাশরাফিকে
 
অনুরোধ করবে বিসিবি। ওয়ানডে অধিনায়ককে এ ফরম্যাটে ফেরানোর জোর চেষ্টা চালানো হবে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গতকাল ধানমন্ডির বেক্সিমকো কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। 
 
বিসিবি অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে মাশরাফির সিদ্ধান্তের উপর। গত বছর এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
 
গতকাল সাকিব আল হাসান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে মিটিং করেছেন বিসিবি সভাপতি। মিটিংয়ের পর মাশরাফিকে টি-টোয়েন্টিতে ফেরানো সম্পর্কে নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘এটা নিয়ে আজ (গতকাল) আলাপ হয়েছে। এটা তো মাশরাফির উপর নির্ভর করে। আমাকে সবাই বলেছে আপনি বললে খেলবে। কিন্তু আমি তো চাপ দিতে পারি না। আমি বলতে পারি যদি সে রাজী হয়।’
 
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজের আগেও মাশরাফিকে টি- টোয়েন্টিতে ফিরতে বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু ওয়ানডে অধিনায়কের ইচ্ছা টেস্টে ফিরতে। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘আমি ওকে (মাশরাফি) এই সিরিজেও খেলতে বলেছিলাম। কিন্তু জোর দিয়ে না। ও তখন বলল ও টেস্ট খেলতে চায়, টি-টোয়েন্টি খেলবে না। তারপর আর এটা আগায়নি। আমি ওকে বলেছিলাম এই সিরিজে খেলতে কারণ নতুন বলে সেই সেরা। এতে কোনো সন্দেহ নাই। মুস্তাফিজ ছাড়া টি-টোয়েন্টির জন্য সবচেয়ে নির্ভর করার মতো বোলার কিন্তু মাশরাফি।
 
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে টেস্টে ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে এ সিরিজে হারের পেছনে নেতৃত্ব গুণের অভাব দেখছেন কয়েকদিন আগে দেশে ফেরা বিসিবি সভাপতি।
 
গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার পক্ষে এটা দেখা সম্ভব না। আমি আসতে পারতাম আর ৫ দিন আগে। একটা উদাহরণ দেই, প্রথম টি-টোয়েন্টির আগের দিন আমি জিজ্ঞেস করেছি স্কোয়াড কি? তারা আমাকে বলতে পারেনি। খেলার দিন বিকাল ৫টায় খেলা, ৩টার সময় জিজ্ঞেস করেছি, তারা আমাকে নাম বলতে পারে না কে কে খেলবে। এরপর আর আমার কিছু বলার থাকে না।’ হস্তক্ষেপ ছাড়া দলকে খেলতে দিতেই তখন দেশে ফিরেননি বিসিবি সভাপতি। নিজের কথা রাখলেও এখন আর চুপ থাকা যাবে না বলেই জানালেন তিনি।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ