চবিতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ

 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মো. সাজিক খান নামের এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে দুই লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয় সেই ছাত্রলীগ নেতা। বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে এ জিম্মির ঘটনা ঘটে এবং বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
 
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অনিক হোসেন সাব্বির চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। সাব্বির আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
 
জানা যায়, জিম্মির শিকার সাজিক বায়ো কেমেস্ট্রি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনে এবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জপুর উপজেলায়। সাজিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে মেধা তালিকায় ৮৭তম স্থান অধিকার করেন। বায়ো কেমেস্ট্রি সাবজেক্ট নিয়ে দিবে বলে ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির ও সাজিকের সাথে দেড় লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়। সাজিক সেই সময় ৫০ হাজার টাকা সাব্বিরকে দেন। পরবর্তীতে যখন সাজিক জানতে পারেন তার পছন্দের সাবজেক্ট মেধা তালিকার মাধ্যমে পেয়েছেন তখন বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় সাব্বির বার বার সাজিককে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। যার ফলে সাজিক তার মার কাছ থেকে বুধবার ২৫ হাজার টাকা নিয়ে সাব্বিরকে দেন। সেই সময় সাব্বির তার কয়েকজন কর্মী নিয়ে সাজিককে একটি রুমে আটকে রাখেন। পরে সাজিকের মার কাছে আরো ২ লাখ টাকা দাবি করেন। এমনিকি টাকা না দিলে তার ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকিও দেন।
 
চাঁদা দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করে সাজিকের মা জহুরা বেগম বলেন, বায়ো কেমেস্ট্রি সাবব্জেক্ট দিবে বলে দেড় লাখ টাকা চুক্তি করি। তবে সাব্জেক্ট এমনিতে আসছে তারাপরও আমি তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। বৃহস্পতিবার আবার ২৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে আমার ছেলে আর আমি ওদেরকে বলেছি আমারে মাফ করে দাও বাজান! আমি গরিব মানুষ। আমি আর টাকা পয়সা দিতে পারব না। আমার ছেলেকে তারা আটকে রাখে। ওরা ফোন দিয়ে বলছে আরো ২ লাখ টাকা না দিলে আপনার ছেলেকে পাবেন না। আপনার ছেলেকে জানে মেরে ফেলব। যার কারণে আমি ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরো ১ লাখ টাকা দিয়েছি। তার পরে আমার ছেলেকে তারা ছেড়ে দিয়েছে।
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অনিক হোসেন সাব্বিরকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। 
 
চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, যে বা যারা অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, আমিও বিষয়টি শুনেছি এবং পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি