নিউইয়র্কে প্রবাসী নাগরিক সমাজের মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি আলোচনাকালে বলেছেন, বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক লুটপাট করে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তার কোন বিচার নেই। অথচ দুই কোটি টাকা 'কথিত' দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি'র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার মামলা ও রায় ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার আর সংবাদপত্র ও বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বক্তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবী করেন।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসস্থ বাংলাদেশ প্লাজায় গতকাল সন্ধ্যায় প্রবাসী নাগরিক সমাজ-এর ব্যানারে আয়োজিত 'বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট' শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হাসানুজ্জামান হাসান,বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমদ, লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শওকত আলী, প্রবীণ সাংবাদিক কাজী শামসুল হক, সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী ডা. মিনা ফারাহ, বিশিষ্ট গবেষক ও সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক-এর সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম, বিশিষ্ট লেখক মাহমুদ রেজা চৌধুরী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমরান আনসারী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আজহারুল হক মিলন,এডভোকেট মুজিবুর রহমান, জামান তপন প্রমুখ।
সভায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'-এর উপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশের নিয়ে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন সহ অন্যান্য কর্মসূচী গ্রহণ এবং ইউএস কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রতিনিধি প্রেরণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, 'বাংলাদেশ চরম সঙ্কটে পতিত। স্বাধীনতার পর থেকেই নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। দেশের এই সঙ্কটে দেশপ্রেমিক কারো চুপ করে থাকার সময় নেই।'
ইত্তেফাক/এসএস