কানাডার অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে। এ উপলক্ষে ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলাদেশ হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমান। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
এ উপলক্ষে অটোয়ার রিচলিউ ভ্যানিয়ার কমিউনিটি সেন্টারে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও বনমন্ত্রী মিস নাতালি দে রোসিইয়ে। মূল অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহিদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমান ১৯৫২’র ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন এবং তার ধারাবাহিকতায় দেশের মহান স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ এ যাঁরা শাহাদাৎ বরণ করেছেন তাঁদেরসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বাগত বক্তব্য শুরু করেন। তিনি ১৯৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ আরো যারা শহীদ হয়েছেন তাদের কাছে জাতি চির ঋণী বলে উল্লেখ করেন।
তিনি নতুন প্রজন্মকে বিশেষত প্রবাসে বসবাসরত বাঙালি শিশু-কিশোরদের মাঝে আমাদের ভাষা আন্দোলন এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন মন্ত্রী মিস নাতালি দে রোসিইয়ে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে সবাইকে স্ব স্ব মাতৃভাষা চর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইত্তেফাক/সেতু