ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের মিশন আগামী মাস থেকেই শুরু করছে বলে জানালেন দেশটির ক্রিকেট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। আগামী ৪ মার্চ থেকে জিম্বাবুয়ে মাটিতে শুরু হতে যাচ্ছে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। ওই বাছাই পর্বে খেলতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তাই বাছাই-পর্ব দিয়েই নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে ক্যারিবিয়রা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানান হোল্ডার, ‘আমার মনে হয় দলের সকলেই বিশ্বকাপের গুরুত্ব বুঝে। আমরা দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছি। তৃতীয়বারের মত ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের মিশন আমরা শুরু করছি। ইতোমধ্যে এটি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনাও সাজিয়েছি।’
দু’বার ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯, প্রথম দু’টি আসরের শিরোপাই ঘরে তুলে ক্যারিবীয়রা। অথচ বিংশ শতাব্দিতে এসে বিশ্বকাপের বাছাই-পর্ব খেলতে হচ্ছে তাদের। কারণ, নিয়মনুযায়ী ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিং-এ প্রথম আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপের মঞ্চে। কিন্তু ওই নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত শীর্ষ আটে না থাকায় বাছাই পর্ব খেলতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এমনকি বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় মর্যাদাকর আসর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। দশ দলকে নিয়ে আগামী ৪ মার্চ থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব।
এই বাছাই পর্ব দিয়েই তৃতীয়বারের মত ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-২০, অনূর্ধ্ব-১৯ ও নারী ক্রিকেটেও ভালো করা ক্যারিবীয় অধিনায়ক হোল্ডার বলেন, ‘আমরা টি-২০ ক্রিকেটে ভালো করছি, শিরোপাও জিতেছি দু’বার। আমরা নারী ক্রিকেট এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট পর্যায়েও ভালো করছি। আমি মনে করি, এবার ওয়ানডে ক্রিকেটে আমাদের ভালো করতে হবে। আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা বাছাই পর্বে খেলতে নামবো।’
এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম ১১ আসরেই সরাসরি খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টারফাইনালেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো তারা। কিন্ত ওই বিশ্বকাপের পরই মুখ থুবড়ে পড়ে তাদের। এরপর ৪২ ওয়ানডেতে মাত্র ৮ ম্যাচে জয় পায় তারা। গেলো তিন বছরের পারফরমেন্সে বিশ্বের সকল দলের মধ্যে তাদের জয়/হারের শতাংশ ছিলো শূন্য দশমিক ২। তাই বাধ্য হয়েই বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব খেলতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তাই এই বাছাই পর্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন হোল্ডার, ‘আমাদের কখনোই বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলতে হয়নি। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে সকল সহযোগী দল তাদের সেরাটা খেলার চেষ্টা করবে এবং ভালো ফল অর্জন করার চেষ্টা করবে। এরমধ্যেই আমাদের জ্বলে উঠতে হবে এবং ভালো ফল অর্জন করতে হবে।’
বাছাই-পর্বে ভালো করতে পারলেই ২০১৯ বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে যাওয়া যাবে বলেও জানান হোল্ডার। তাই বাছাই-পর্ব বিশ্বকাপের মূল মঞ্চের মোমেন্টাম, বলে জানালেন হোল্ডার, ‘আমরা জানি সামনে কি ঝুঁকি রয়েছে। আগামী বছর বিশ্বকাপের জন্য কিছু মোমেন্টাম লুফে নেওয়া, সবাই সংঘবদ্ধ হওয়া, টিম কন্ডিশন চূড়ান্ত করা এবং সবকিছু ঠিকঠাক রাখার সুযোগ এটা। আশা করছি, ওয়ানডে ফরমেটে আবারো আমরা ঘুড়ে দাড়াতে পারবো। এই ফরম্যাটে গেল তিন বছর ধরে আমরা খুব বেশি ভালো করতে পারিনি। তবে এবার ভালো পারফরম্যান্স করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
এদিকে, বাছাই-পর্বে অংশ নেয়ার জন্য অভিজ্ঞ-মারকুটে ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন হোল্ডার। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই গেইল ও স্যামুয়েলসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা নিজেদের ইচ্ছায় ও দেশের কথা চিন্তা করে ওয়েস্ট উইন্ডিজের হয়ে আবারো বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ক্যারিয়ারের শেষে এসে বিশ্বকাপ খেলার মধ্যদিয়ে নিজেদের উজাড় করে দেয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে গেইল ও স্যামুয়েলসের।’ বাসস।
ইত্তেফাক/ রেজা