কোর্টনি ওয়ালশ টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পাঁচশো উইকেট নেওয়া বোলার। শেষ করেন ৫১৯ টেস্ট উইকেট এবং ২২৭ ওয়ানডে শিকার নিয়ে। ফাস্ট বোলার হয়ে খেলেছেন সতেরো বছর ধরে। দু’ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে করেছেন ৪০ হাজার বল।
কোচিং ক্যারিয়ারে প্রায় দুই বছর বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রীলঙ্কায় আসন্ন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব। এর পরপরই তিনি উড়াল দিয়েছেন কলকাতায়।
সেখানে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ ও বেঙ্গল ক্লাবের যৌথ আয়োজনে পাতৌদি স্মারক বক্তৃতায় এ বছরের বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন ওয়ালশ। ২০১২ সালে শুরু হওয়া টাইগার পাতৌদি স্মারক বক্তৃতায় আগে এসেছেন ইমরান খান, গ্রেগ চ্যাপেল, সৌরভ গাঙ্গুলি, কপিল দেবদের মতো তারকারা। ওয়ালশ প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান, যিনি এই বক্তৃতা দেবেন। তিনি বলেন, ‘আমি সম্মানিত এখানে আসতে পেরে। টাইগার সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের একজন।’
ক্রিকেট ভক্তরা তাকে মনে রেখেছেন নানা কারণে। কপিল দেবের ৪৩৪ উইকেটের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন তিনিই। সেই রেকর্ড ২০০৪ সালে ভেঙে দেন অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বাইশটি টেস্টে অধিনায়কত্ব করা ওয়ালশ অবশ্য ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে থেকে যাবেন মাঠে তাঁর ভদ্র ভাবমূর্তি ও স্পোর্টসম্যান-স্পিরিটের জন্য।
১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তানে আয়োজিত ক্রিকেট বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ আজও লোকের মুখে মুখে রূপকথার মতো ঘুরে ওয়ালশের স্পোর্টসম্যান-স্পিরিটের জন্য। সেই ম্যাচ জিতলে শেষ চারে যাওয়ার দরজা খুলে যেতে পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। ব্যাট করছিলেন আব্দুল কাদির। বোলার ছিলেন ওয়ালশ। শেষ বল করতে গিয়ে ওয়ালশ দেখেন নন-স্ট্রাইকার সেলিম জাফর ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। সহজেই সে দিন জাফরকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচ জেতাতে পারতেন ওয়ালশ। কিন্তু ওয়ালশ তাঁকে ক্রিজে ফেরার সুযোগ দিয়ে ফের বল করতে যান। শেষ বলে রান নিয়ে পাকিস্তানকে জিতিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন কাদির। হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু দুনিয়া জুড়ে ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয় জিতে নেন ওয়ালশ।
ইত্তেফাক/কেআই