কতিপয় কর্মকর্তার ‘হঠাত্’ অসহযোগিতায় স্থবির হয়ে পড়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গত প্রায় এক বছর ধরেই এসব কর্মকর্তা কৌশলে অসহযোগিতা করে আসছিলেন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাদের এই আচরণ চরমে পৌঁছেছে। তাদের অসহযোগিতার কারণে এক বছর ধরে নতুন প্রকল্প গ্রহণে মারাত্মক ধীরগতি ছিল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নতুন উন্নয়ন-প্রকল্প গ্রহণে বিধিনিষেধ থাকলেও সারাদেশে আগে থেকে চলমান প্রকল্পসমূহের কার্যক্রম সম্পাদনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে যথাযথ সহযোগিতা করছেন না বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কতিপয় কর্মকর্তার রহস্যজনক অসহযোগিতার কারণে এক বছর আগে একনেকে পাস হওয়া প্রকল্পেরও দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। ‘মুজিব কিল্লাহ’ নামে একনেকে পাস হওয়া একটি প্রকল্পে ছোট্ট একটি সংশোধনী পাঠানোর কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। মাসের পর মাস গেলেও মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এখন পর্যন্ত সেই সংশোধনী-সম্বলিত চিঠি যায়নি। জেলা গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও শুরু করা সম্ভব হয়নি এসব কর্মকর্তার অসহযেগিতার কারণে।
মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা সমর্থক কর্মকর্তাদের একটি চক্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই রহস্যজনকভাবে অসহযোগিতা করে আসছেন। এসব কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ে এমন একটা ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন যে, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর সরকারে পরিবর্তন আসতে পারে। কল্পিত ওই পরিবর্তনের স্বপ্ন থেকেই মন্ত্রণালয়ের রুটিন কার্যক্রমেও তারা অসহযোগিতা করা শুরু করেছেন। এমনকি সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন যেন আটকে যেতে পারে, সেজন্য গোপনে তারা স্বার্থসংশ্লিষ্টদের আদালতে মামলা করারও পরামর্শ দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের উচ্চ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপ-সচিব পদের কর্মকর্তাদের একটি অংশ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তেমন একটা মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন না মন্ত্রী মায়া চৌধুরী। জরুরি ফাইলসমূহ তৈরি করে স্বাক্ষরের জন্য প্রয়োজনে বাসায় পাঠানোর জন্য সচিবকে কয়েকবার মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে মন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠানোর জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে না। ফলে মন্ত্রণালয়ে ফাইলের স্তুপ পড়েছে।