সড়ক বন্ধ রেখে উন্নয়ন কাজ করায় রাজধানীর অভিজাত গুলশান-১ এলাকায়ও জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। গুলশান গোল চত্বর থেকে শ্যুটিং ক্লাব অভিমুখী সড়কটি বন্ধ থাকায় বাড্ডা লিংক সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। সেই সাথে বেড়েছে যানজটও। ফলে ওই এলাকায় যাতায়াতকারী লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গুলশানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় মাস খানেক ধরে গুলশান-১ এর গোল চত্বর থেকে শ্যুটিং ক্লাব অভিমুখী সড়কটি বন্ধ করে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ চলছে। গুলশানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের গতি ধীর নিয়ে ক্ষুদ্ধ নাগরিকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গুলশান-১ এর গোল চত্বর থেকে শ্যুটিং ক্লাবের সড়কে বড় বড় আরসিসি পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তার উপরে ঢালাইয়ের জন্য ভাঙা ইট ও বালু রাখা হয়েছে। রাস্তার এমন অবস্থা, সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাও যেন দায়। জানা গেছে, এই সড়কটি বন্ধ থাকায় বাড্ডা লিংক রোড, মহাখালী ও হাতিরঝিলগামী সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এতে করে যেমন বেড়েছে জনদুর্ভোগ, তেমনই ট্রাফিক পুলিশকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কাজের ধীর গতি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজধানীর একটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে অন্য এলাকার কাজের কি যে অবস্থা হবে, সেটা বুঝা যায়। তারা খুব দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে জনদুর্ভোগ নিরসন করার জন্য সিটি করপোরেশনেরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও গুলশানের বাসিন্দা শাহরিয়ার জামান বলছিলেন, এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে তিনি বুঝতে পারছেন না। সড়কটি বন্ধ থাকায় মাসখানেক ধরে ব্যক্তিগত গাড়িটি বাসা থেকে বেরও করতে পারছেন না। তিনি বলেন, গাড়ি বের করতে না পারায় সিএনজি কিংবা অন্য যানবাহনে করে যাতায়াতে প্রতিদিন অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই ভাবে দুর্ভোগের কথা বলছেন একটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা আতিয়া জান্নাত সামিয়া। তিনি বলছেন, সিটি করপোরেশনের কাজের এমন ধীর গতি তিনি আগে কখনও দেখেননি। রাস্তা বন্ধ থাকায় অন্য নাগরিকদের মতো তারও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, সিটি করপোরেশনের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের কাজ আগামী মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য সাময়িক দুর্ভোগ হচ্ছে। কিন্তু সেটা বেশিদিন থাকবে না। আশা করি, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
ইত্তেফাক/নূহু