২৮ বছর ধরে বন্ধ থাকা রাকসু নির্বাচন দিতে প্রস্তুত রাবি প্রশাসন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন ঝুলে আছে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও রাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কবে রাকসু নির্বাচন দিবে সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এদিকে রাবি প্রসাসন রাকসু নির্বাচন দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহান।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম রাকসু নির্বাচন হয় ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে। ওইসময় রাকসুর নাম ছিল রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (রাসু)। আইয়ুব খানের শাসনামলে এর কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ১৯৬২ সালে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নামে যাত্রা শুরু করে। এখন পর্যন্ত রাকসু ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে। তবে ১৯৭০-৭২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি। এরপরে সামরিক শাসনামলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল রাকসুর কার্যক্রম। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন উপাচার্য আনিসুর রহমান এক আদেশ বলে রাকসুর কার্যকরী সংসদ বাতিল ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিলেও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে সেটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই হিসাবে গত ২৮ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন হয়নি। ফলে স্থবির হয়ে আছে রাকসুর সকল কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে রাকসুর সব কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও প্রতি বছর (শিক্ষার্থী ভর্তির সময়) ঠিকই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা হারে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের জন্য ছাত্র সংগঠনগুলো সদা প্রস্তুত উল্লেখ করে ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি শিগগিরই রাকসু নির্বাচন হোক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ছাত্রনেতাদের।
 
প্রশাসনের সাহসিকতার অভাব আছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাহসিকতা এবং সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তাদের ভিতরে একটা ভয় কাজ করছে। তারা মনে করছে নির্বাচন দিলে যদি তাদের পছন্দের ব্যক্তিরা নির্বাচিত না হয় তাহলে তারা তাদের কর্তৃত্ব হারাবে। তবে প্রশাসন ইচ্ছা করলেই নির্বাচন দিতে পারে।’
 
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি মনে করি রাকসু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোই বেশি দায়ী। কারণ যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দল তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়। ফলে তারা চায় না যে, রাকসু নির্বাচন হোক। তাদের যদি সদিচ্ছার থাকতো তাহলে এটা অনেক আগে সম্ভব ছিল। এছাড়াও বর্তমান পরিবেশও নির্বাচনের জন্য দায়ী। পুলিশ-প্রশাসন-ছাত্রলীগের কর্তৃত্বেই ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এখানে অন্যান্য ছাত্র নেতারা ক্যাম্পাসে অবাধে চলাচল করতে পারছে না, ফলে তারা সাধারণ ছাত্রদের সাথে মিশতে পারছে না। তবে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেই এ নির্বাচন সম্ভব।’
 
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই রাকসু নির্বাচন দিতে পারে। আমরা রাকসু নির্বাচনের পক্ষে তবে এটা সময়ের ব্যাপার। প্রশাসন যেকোন সময় এ নির্বাচন দিতে পারে। বর্তমান পরিবেশেই রাকসু নির্বাচন দেয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।’
 
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘আমি তো সবসময় চাই নির্বাচন দিতে। যারা নির্বাচন করবে তারা প্রস্তুতি নিলে এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলে নির্বাচন দিতে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সেই পরিবেশ ছাত্রসংগঠনগুলো তৈরি করতে পারছে না। ছাত্রনেতারা নির্বাচন নিয়ে বলার দরকার তাই বলে। কিন্তু বাস্তবে এব্যাপারে তাদের কোন উদ্যোগ দেখি না। আমি এমন নির্বাচন দিতে চাইনা, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুনোখুনি হোক।’
 
ইত্তেফাক/আরকেজি