দখল-দূষণ রোধ করে শীতলক্ষ্যা বাঁচানোর দাবিতে শনিবার সকালে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (পবা) ১৭টি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ওই মানববন্ধন থেকে শীতলক্ষ্যার দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কারখানায় ইটিপি বাধ্যতামূলক করার দাবি জাননো হয়।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলনের আহ্বায়ক বোরহান মেহেদী, পবা’র সহ-সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, পুরান ঢাকা নাগরিক অধিকার উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ-এর সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংসদ-এর সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহ্বুব সৈয়দ, ডাব্লিউবিবি-ট্রাস্ট-এর কর্মসূচী ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান, সচেতন নগরবাসীর সভাপতি জিএম রোস্তম খান, নগরবাসী সংগঠনের চেয়ারম্যান হাজী শেখ আনসার আলী, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর হিরু, ইয়ুথ সান’র সমন্বয়ক শিকদার আরিয়ান তানভীর প্রমুখ।
পবা’র চেয়ারম্যান ও মানববন্ধনের সভাপতি আবু নাসের খান বলেন, বিভিন্ন কলকারখানায় উৎপাদিত বিষাক্ত বর্জ্য, টেক্সটাইল মিলের রাসায়নিক বর্জ্যসহ অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে ইটিপির মাধ্যমে পরিশোধন করতে হবে এবং ইটিপি সর্বক্ষণ চালু রাখতে হবে। এছাড়াও নরসিংদীর পলাশসহ শীতলক্ষ্যার দু’পাড়ের অবৈধ সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলন-এর আহ্বায়ক বোরহান মেহেদী বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীতে বালু তুলে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা রাতারাতি অসম নদী ড্রেজিং করার ফলে পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। তাছাড়া নদীর তীর কেটে নির্বিচারে বালুদস্যুতার ফলে ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্য বক্তারা বলেন, শীতলক্ষ্যা এই নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা। শিল্প কারখানাগুলোর বর্জ্যও সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। এসব প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে নদীর জমি ভরাট করে দখল করে ফেলেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখল ও দূষণের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই নদীটি। মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
ইত্তেফাক/এমআই