সুবিধা বঞ্চিত নতুন ২৫ ওয়ার্ডের ১৫ লাখ লোক

নাগরিক সেবার মান বাড়াতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ১৮টি করে নতুন ৩৬টি ওয়ার্ড যোগ করা হয়েছে। তবে দুই বছর হতে চললেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এর ২৫ ওয়ার্ডে। দক্ষিণ সিটির ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে উন্নয়ন প্রকল্প চললেও বাকিগুলো এখনো নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। অন্যদিকে উত্তর সিটির একটিতেও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা হলেও নতুন ওয়ার্ডগুলোর সার্বিক উন্নয়নের অবস্থা ‘অজপাড়াগাঁ’ থেকেও নাজুক। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার সঙ্গে তুলনা করলে নাগরিকসেবা একেবারেই নেই। তবে এসব এলাকার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বর্তমানে দাতব্য চিকিত্সালয় রয়েছে ২০টি, শরীরচর্চা কেন্দ  দক্ষিণে ১৬টি, পাঠাগার ৯টি, কমিউনিটি সেন্টার ৪০টি, আবাসন (স্টাফ কোয়ার্টার) আটটি, মাতৃসদন তিনটি, নগর হাসপাতাল দুটি, মহিলা কলেজ একটি,  জাদুঘর ও নাট্যমঞ্চ দুটি। দুই সিটির কর্মকর্তারা জানান, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইউনিয়নগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ। তবে মহাপরিকল্পনার আওতায় সড়কের আয়তন নির্ধারণ, বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, জলাধার সংরক্ষণ, সড়কবাতি, ওয়ার্ড কার্যালয়, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে। এজন্য তৈরি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে কোথাও কোথাও বছরের পুরো সময় থাকে জলাবদ্ধতা। নেই ভালো রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। রাস্তায় ফুটপাত আর সড়কবাতি এক ধরনের স্বপ্নের মতো তাদের কাছে।  দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৬৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হালিম তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের মতো উন্নয়ন হবে, দুই বছর ধরে শুনেই আসছি। কিন্তু উন্নয়নের মুখ তো দেখলাম না। বছরের বেশিরভাগ সময় জলাবদ্ধতায় ভুগি। বর্ষায় ঘরের সামনে থাকে হাঁটু পানি।

২০১৬ সালের ৯ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আটটি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এই ইউনিয়নগুলোকে নতুন ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে ডিএসসিসির শ্যামপুর ইউনিয়নকে ৫৮ ও ৫৯, দনিয়াকে ৬০, ৬১ ও ৬২, মাতুয়াইলকে ৬৩, ৬৪ ও ৬৫, সারুলিয়াকে ৬৬, ৬৭ ও ৬৮, ডেমরাকে ৬৯ ও ৭০, মান্ডাকে ৭১ ও ৭২, দক্ষিণগাঁওকে ৭৩ ও ৭৪ ও নাসিরাবাদকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড করা হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, নতুন ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭ ও ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শুরু করা হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিএসসিসির ওই ১১ ওয়ার্ডে কাজ শুরু হয়, যা শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। এতে ৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫২ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন, ৭০৬৩টি গাছ রোপণ, ১৫৮ কিলোমিটার ড্রেনের উন্নয়ন, ৬ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন এবং সড়কে এলইডি লাইট স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়া ৮টি ইউনিয়নকে ভেঙে ১৮টি ওয়ার্ড করা হয়েছে। এর একটিরও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। ডিএনসিসির সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, নতুন ওয়ার্ডগুলোতে উন্নয়ন কাজ আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুতই প্রকল্প পাস হবে।

ইত্তেফাক/নূহু