জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর দেশের ৪৭জন শিল্পী আঁকলেন ৪৭টি চিত্রকর্ম। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ-লাখ মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণের নানা ক্যানভাসে শিল্পীরা জীবন্ত করে তোলেন সেই দিনের ইতিহাসকে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উৎসব’ আজ বুধবার সকালে শুরু হয়েছে। শুরুর দিনে সকালে শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এক আর্টক্যাম্পে শিল্পীরা এইসব ছবি আঁকেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐহিত্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি এই ক্যাম্পের আয়োজন করে।
চিত্রশালা প্লাজায় সকালে ‘৭ই মার্চের ভাষণ : বাঙালির স্বাধীনতার মাইলফলক’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন করেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উৎসব’ উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, শিল্পী জামাল আহেমদ ও শিল্পী ফরিদা জামান।
সমরজিৎ রায় চৌধুরী আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, যে লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্য শিল্পীরা এই আর্টক্যাম্পে ছবি আঁকছেন। এটা আমাদের বহুল আকাক্সিক্ষত ক্যাম্প। ক্যাম্প থেকে যে সব চিত্রকর্ম শিল্পীরা উপহার দেবেন, তা এ জাতির শিল্পকর্মের ইতিহাসে অনন্য সম্পদ হয়ে থাকবে।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও নাট্য-সংস্কৃতিজন লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আজকে যে সব গুণী শিল্পীরা এই আর্টক্যাম্পে ছবি আঁকছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ ৭ই মার্চের ভাষনের প্রত্যক্ষদর্শী। ২০৪১ সালে যখন দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে, তখন এই শিল্পীরা হয় তো বেঁচে নাও থাকতে পারেন। তাদের এই ঐতিহাসিক কাজ ও ঘটনা স্মৃতি হয়ে থাকবে। চিত্রকর্মেও ৭ই মার্চের ভাষণকে সংরক্ষণের জন্য এই ক্যাম্প অনুষ্টিত হলো। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের উপর ছবি এঁকে এ শিল্পীরা তাদের মহান দায়িত্ব পালন করলেন।
দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গে একদল তরুণ শিল্পীও আর্টক্যাম্পে অংশ নেন। ক্যাম্পে অংশ নেয়া শিল্পীরা হচ্ছেন, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, হামিদুজ্জামান খান, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, অলকেশ ঘোষ, জামাল আহেমদ, ড. ফরিদা জামান, নাসিম আহমেদ নাদভী, নাঈমা হক, নাজমা আখতার, রোকেয়া সুলতানা, রেজাউন নবী, আতিয়া ইসলাম এ্যানি, ড. মোহাম্মদ ইকবাল, আবদুস সাত্তার তৌফিক, মোখলেসুর রহমান, সমীরন চৌধুরী,শামসুল আলম আজাদ, রাশেদুল হুদা সরকার, অভিজিৎ চৌধুরী, অনুকুল মজুমদার, বিরেন সোম, রবিউল ইসলাম, শাগজাহান আহমেদ বিকাশ, ময়েজউদ্দিন, দেওয়ান মজিান, দুলাল চন্দ্র গাইন, গুলশান হোসেন, রফি হক, জাহিদ মুস্তাফা, ফজলুর রহমান ভুটান, রত্নেস্বর সূত্রধর, হারুনুর রশীদ টুটুল, শর্বরী রায় চৌধুরী, তাজ উদ্দিন, সৈয়দ ইকবাল, ফারজনা আহমেদ শান্তা, আবুল বারক আলভী, শহীদ কাজী, নাজির খান খোকন, আসমিতা আলম শাম্মী ও বিপাশা হায়াত, জাকির হোসেন পুলক, আফরোজা জামিল কঙ্কা, মিনি করিম, শামীমা সুব্রানা, সঞ্জিব দাস অপু ও আশরাফুল আলম পপলু।
একাডেমি থেকে বাসসকে জানান হয়, আর্টক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারিতে যুক্ত করা হবে। দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই এই চিত্রকর্ম প্রত্যক্ষ করতে পারবে। বাসস।
ইত্তেফাক/এমআই