আইন করেও থামানো যাচ্ছে না

চলন্ত গাড়িতে চালকের হাতে ফোন, ঘটছে দুর্ঘটনা

চলন্ত গাড়িতে চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ হয়নি। এটি বন্ধে সরকার দশ বছর আগে আইন করে। কিন্তু কেউ এর তোয়াক্কা করছে না। এজন্য বাড়ছে দুর্ঘটনা। আগামীতে এ ব্যাপারে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও তা যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালকদের মোবাইলে কথা বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যানবাহন চালকরা কেউ এই আইনের তোয়াক্কা করছেন না। দেখা গেছে, সব যানবাহনের চালকই ইচ্ছামতো চলন্ত অবস্থায় যানবাহনে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে অনেক সময় চালকের হাতে উল্টো নাজেহাল হতে হয়। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের কাছে যাত্রীরা অভিযোগ করলেও চালকের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে রহস্যজনকভাবে সটকে পড়েন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একাধিক ব্যক্তি ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, চালকদের ওপর পুলিশ আইনের প্রয়োগ করে না। চালকদের জরিমানা বা শাস্তির পরিমাণ বেশি  হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যেত।

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দায়িত্বপালনরত একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে আইনটি প্রয়োগ করা যায়না। পুলিশের এক কর্মকর্তা স্বীকার করে বলেন, আইনটি যেমন চালকেরা মানেন না, তেমনি সড়কে যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকেন, তারাও এ ব্যাপারে সচেতন নন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’র মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী উদাহরণ টেনে বলেন, সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ের ত্রিবর্দী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে লরীর সংর্ঘষে ১০ জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনার কারণ মোবাইল ফোন। আহত যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় চালক মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। যাত্রীরা বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও চালক কর্ণপাত করেননি। তিনি বলেন, এটা বন্ধে নতুন আইন জরুরি, তবে তার চেয়েও জরুরি কঠোর ভাবে আইনটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহম্মদ মজুমদার বলেন, মোবাইলে কথা বলার সময় চালকরা অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। এ কারণে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে সরকার ২০০৭ সালের ১২ জুলাই মোটরযান আইনের ১১৫ (বি) ধারার সংশোধন করে নতুন আইনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। নিয়মভঙ্গকারী চালককে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়। কিন্তু তার বাস্তবায়ন খুব একটা নেই বলেই চালকরা অবাধে চলন্ত  অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান বলেন, চলন্ত গাড়িতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে আইন যাই করা হোক। আসলে সচেতনতা না আসলে কোন ভাবেই এটি বন্ধ করা যাবেনা। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ চালকদের মধ্যে লিফলেট বিলি করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৭ পাস হলে কেউ গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এ আইন ভাঙলে এক মাসের কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারতেও চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলা বন্ধে আইন রয়েছে। সেখানে এ আইন ভাঙলে ২ হাজার টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের জেল অথবা উভয় দন্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু