দুর্ভোগই যেন নিত্যদিনের সঙ্গী রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা, ওয়াপদা রোড, মহানগর প্রজেক্টসহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দাদের। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে রাস্তা খনন করা হলেও ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে খনন অবস্থাতেই রয়েছে। ফলে ওয়ার্ল্ড ভিউ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আল ফুরকান ইংলিশ স্কুল ও গার্লস কলেজ এবং আদর্শ প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এ দুর্ভোগের শেষ কবে হবে, সেটা তাদের জানা নেই। সিটি করপোরেশনের কাজে এরকম উদাসীনতা তারা আগে কখনো দেখেননি। ৩ মাস ধরে গাড়ি তো বেরই করতে পারছেন না, এখন পায়ে হেঁটেও চলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩ মাস আগে ঢাকা উত্তর সিটির রামপুরা এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রাস্তা খনন করে কিছু অংশে পাইপ বসানো হলেও অন্যান্য অংশ এখনো খনন করা অবস্থায়ই রয়েছে। এনিয়ে কারো যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রামপুরা ওয়াপদা রোড থেকে মহানগর প্রজেক্ট পর্যন্ত রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় গভীর গর্ত করে দুই পাশে মাটি উঁচু করে রাখা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিউ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে গেলেই চোখে পড়ে, গেটের সামনে ভাঙা ইট ও মাটির স্তূপ। একই সড়কের আদর্শ প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটে বালুর স্তূপ। আর আল ফুরকান ইংলিশ স্কুল ও গার্লস কলেজে প্রবেশের গেটের সামনের অংশের তো আরো করুণ অবস্থা। গভীর করে গর্ত করে রাখার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্কুলে প্রবেশ করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব উল্লাহ বলছিলেন, জনগণের কাছে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা না থাকায় নাগরিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। যদি জবাবদিহিতা থাকত, তা হলে এত জনদুর্ভোগ পোহাতে হতো না নাগরিকদের। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এ দুর্ভোগের অবসান হবে কবে? সিটি করপোরেশন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোথায়, কেউ কি দেখার নেই? এত দিন ধরে একটা সড়ক পুরোপুরি বন্ধ, অথচ এ নিয়ে কেউ কিছু বলছেন না। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করতে সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ লিয়াকত আলীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি সভায় আছেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/নূহু