নারায়ণগঞ্জে গরমের তীব্রতা শুরুর আগেই বিদ্যুতের লোডশেডিং মানুষকে আবারও ভাবিয়ে তুলতে শুরু করেছে। গত দুইদিন ধরে দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় কিছুক্ষণ পর পর তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। গরম মাত্র পড়তে শুরুর এ সময়ে এ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
শহরের চাষাঢ়া এলাকার কবির হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ৭-৮ বার বিদ্যুৎ গেছে। যখনই গেছে তখনই এক থেকে দুই ঘণ্টারও বেশী লোডশেডিং হয়। ফলে বিদ্যুতের মটর চালানো যায়নি। এতে করে ঘরের কাজ করা যায়নি। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সবাই।
শহরের খানপুর এলাকার রেহানউজ্জামান জানান, ‘কী কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং তা আমাদের জানা প্রয়োজন। যেহেতু সরকার ডিজিটালাইজড হচ্ছে সেহেতু বিদ্যুতের লোডশেডিংও আমাদের অন্তত মোবাইলে ম্যাসেজ তথা এসএমএস করে জানানো যেত।’
শহরের আমলপাড়া এলাকার সাদেকুর রহমান জানান, তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে এখনই। এটা ভাবনার বিষয়। গরমের দিন তো সামনে। তখন জানি কী হয়। এদিকে গত দুইদিন ধরে প্রচন্ড তাপদাহ বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের এ ভানমুতি খেলায় অতিষ্ট পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী।
এর আগে ডিপিডিসির এক এসএমএস থেকে জানানো হয়, নতুন একটি গ্রীড সাবস্টেশনের আপগ্রেড কাজের জন্য ১৪, ১৫ ও ১৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকবে। এজন্য ডিপিডিসির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
চীফ ইঞ্জিনিয়ার দেওয়ান আবুল কালাম আজাদ জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে ৮০ মেগাওয়াটের একটি নতুন বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। যেহেতু গ্রীস্মকাল আসন্ন এবং প্রচন্ড গরমের মধ্যে অতিরিক্ত যে বিদ্যুতের লোড প্রয়োজন সেটা রিকভার করার জন্য এই কাজটি আগেই সম্পন্ন করে রাখতে হবে নতুবা গ্রীস্মকালে অতিরিক্ত বিদ্যুতের যে লোড সেটা সংকুলান করা সম্ভব হবেনা। ওই নতুন বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন উপলক্ষ্যে আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু লোডশেডিং দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি আগামী শুক্রবারের মধ্যেই লোডশেডিং এর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/ রেজা