অনুমোদনহীন লটারির টিকিট বিক্রি বন্ধ করলো ছাত্রলীগ

শতাধিক অটোভ্যানে গ্রাম অঞ্চলে চলছিল ফেরি করে অবৈধ লটারি বিক্রি। শনিবার বিকেলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলো। গুরুদাসপুর পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগ বন্ধ করলো সেই প্রচারণা।
 
বিকেলে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের সামনে থেকে অনুমোদনহীন লটারি বিক্রির সময় ছাত্রলীগ নেতা সামছুল হক, আবু তাহের ও ছাবলুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মী সমর্থকরা একটি অটোভ্যান জব্দ করে। এসময় ভ্যান থেকে প্রচার মাইক বন্ধ করা হয়।
 
ভ্যান চালক উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের রওশনপুর গ্রামের নজিরের ছেলে ফিরোজ জানান, তিনি দৈনিক ৩শ টাকা হাজিরায় লটারি বিক্রিতে র‌্যাফেল ড্র কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন। শনিবার থেকে উপজেলার পৌর এলাকায় লাটারির টিকিট বিক্রি করছিলেন। তার মতো প্রায় শতাধিক ভ্যান চালক একই ভাবে গ্রামে টিকিট বিক্রি করছেন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড়ে শনিবার থেকে মাসব্যাপি ‘দৈনিক স্বপ্নপুরী র‌্যাফেল ড্র’ নামে অনুমোদনহীন লাটারি, জুয়া, নগ্ন নৃত্য চালু করা হয়েছে। এর আগেও দফায় দফায় নাম পরিবর্তন করে একই স্থানে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালানো হয়। সম্প্রতি ওই আসর গুরুদাসপুর উপজেলায় চালুর প্রস্তুতি চলছিল। সে সময় ছাত্রলীগসহ এলাকার সাধারণ মানুষ তা বন্ধ করে দেয়।
 
এ লটারিতে সোনার কানের দুল, গরু, ছাগল, মোটরসাইকেল, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ লোভনীয় পুরস্কার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব পুরস্কারের লোভে পড়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ হাঁড়ির চাউল বিক্রি করেও টিকিট কিনেছেন। এতে শহর ছাড়াও গ্রামের মানুষ সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ সরকারিভাবে এসব লটারি বিক্রি ও জুয়া চালানোর নির্দেশনা নেই।
 
পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছাবলুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক ও ড. জোহা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের জানান, কতিপয় টাউট প্রকৃতির লোকজন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব লটারি চালু করেছেন। এতে রাজনৈতিকভাবে দলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তাই তারা এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলায় কোন ভাবেই জুয়া, নগ্ন নৃত্য, অনুমোদনহীন লটারি চালাতে দেয়া হবে না।
 
গুরুদাসপুর অঞ্চলের লটারি জুয়ার ম্যানেজার বাবলু জানান, প্রসাশন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করেই লটারির টিকিট বিক্রি করছেন। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস জানান, তিনি বাহিরে আছেন। থানায় ফিরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া লটারির টিকিট বিক্রির নিয়ম নেই। যারা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
 
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (গুরুদাসপুর-বাড়াইগ্রাম) আসনের সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলায় এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রশাসন ও ছাত্রলীগকে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি