খুলনা জেলা বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মোড়লকে (৪২) গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে শনিবার সন্ধ্যায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গুম করেছে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে নিখোঁজ নজরুলের স্ত্রী তার স্বামী নজরুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ায় ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেন, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোড়ল শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার বেতাগ্রাম নিজ বাড়ি থেকে আঠারো মাইল নামক বাজারে যান। সেখান থেকে একটি ভাড়ার মোটরসাইকেল নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা যশোরের কেশবপুরে মঙ্গলকোট এলাকায় ডাক্তার দেখাতে যান। ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে সন্ধ্যায় উপজেলার আটালিয়া এলাকায় স্থানীয়রা দেখতে পান তার ভাড়া করা মোটরসাইকেল, চাবি ও টুপি পড়ে রয়েছে।
পরে মোটরসাইকলের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ওই মোটরসাইকল নজরুল ভাড়া নিয়েছিলেন। এরপর নজরুলের সন্ধান করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ করেও নজরুলের সন্ধান না পাওয়ায় শনিবার রাতেই তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ডুমুরিয়া থানায় একটি জিডি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নজরুল ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি কখনো আইন বা সমাজ বিরোধী কাজে জড়িত ছিলেন না। তিনি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে সরকারের রোষানলে পড়ে তিনি জেল খেটেছেন। কিন্তু এই মূহূর্তে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় ওয়ারেন্ট নেই। সারা দেশে একের পর এক বিরোধী মতাদর্শের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ধারাবাহিকভাবে গুম-অপহরণের শিকার হওয়ায় নজরুলের জীবন নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করা হয় লিখিত বক্তব্যে।
তানজিলা বেগম তার স্বামী নজরুল ইসলাম মোড়লকে প্রশাসনের মাধ্যমে ফেরত দেয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা খান আলী মুনসুর, মনিরুজ্জামান মন্টু, সাইফুর রহমান মিন্টু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম নান্নু প্রমুখ।
ইত্তেফাক/আরকেজি