নিউইয়র্কে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করেছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কে স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শতাধিক বাঙালি শিশু-কিশোর অংশ নেয়। পুরো মিলনায়তন পরিণত হয় শিশুমেলায়। 
 
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমরা এখন স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের সকল নির্ণায়ক পূর্ণ করেছি। জাতিসংঘ থেকে এ সংক্রান্ত স্বীকৃতিপত্র পেয়েছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের পথে, আরও উন্নত হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বিনির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে উন্নত-সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল দেশে পরিণত হবে মর্মে রাষ্ট্রদূত মাসুদ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 
 
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আমাদের উচিত প্রত্যেক শিশুকেই জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সমন্ধে জানানো। জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিশুদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুরা বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক গৌরবের বিষয় জানার সুযোগ পাচ্ছে যা তাদেরকে আগামী দিনের সুনাগরিক হতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। 
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতির পিতার সম্মোহনী নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি প্রিয় বাংলাদেশ। বাঙালির জীবনে এমন কোন অধ্যায় নেই, এমন কোন পর্ব নেই যেখানে ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কণ্ঠ স্বোচ্ছার হয়নি। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা শিশুদের ভালোবাসতেন। যা আমাদের জন্য একটি অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে বেঁচে আছে। 
IMG0
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত শিশু-কিশোরদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা শিশু-কিশোরদের এই অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন। চিত্রাঙ্কণ ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। এর থেকে প্রতীয়মান হয় আপনারা প্রবাসে থাকলেও দেশকে ও বঙ্গবন্ধুকে ভোলেননি। প্রতিটি শিশু যাতে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে বড় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। জাতির পিতার জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আরো আলোচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী, শহীদ পরিবারের সন্তান ডা. মাসুদুল হাসান।
 
চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ক্রেস্ট, জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন ‘দ্য আনফিনিস্ড মেমোর্য়াস’ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
 
সাংস্কৃতিক পর্বে শিশুদের আবৃত্তি, সঙ্গীত ও দলীয় নৃত্য পরিবেশন ছিল অত্যন্ত আর্কষণীয়। অনুষ্ঠানে শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটা হয়। 
 
ওয়াশিংনে বাংলাদেশ দূতাবাস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করেছে করেছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস। এ উপলক্ষে শনিবার দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের। 
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় রচনা লেখা প্রতিযোগিতা এবং গানের অনুষ্ঠানের। মঞ্চে শিশুরা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস তুলে ধরে বিভিন্ন পরিবেশনা করে। 
অনুষ্ঠানে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ওয়াশিংটন চ্যাপ্টারের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর উল্লেখযোগযোগ্য অংশ পড়ে শোনার প্রেস মিনিস্টার (প্রেস) শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাউন্সেলর সামিয়া ইসরাত রনি। 
 
ইত্তেফাক/এমআই