বিসিসির অচলাবস্থায় নগরী পরিচ্ছন্নের কাজ বন্ধ!

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অচলাবস্থায় নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনরতরা। ফলে রবিবার রাত থকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমা হয়েছে। আগামী ২/১দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে নগরীর সড়কগুলো ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, একমাস অফিস তালা দিয়ে আন্দোলনরতরা কর্মবিরতি রাখায় কোনো রাজস্ব আদায় হয়নি। একমাসে যে পরিমাণ টাকা রাজস্ব আদায় হতো তা দিয়ে বেতন দেওয়া যেতো তাই সংকট সমাধান করতে হলে আন্দোলনকারীদের কাজে যোগ দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের একজন পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শাখার সহস্রাধিক শ্রমিক দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন। তারা ৩ মাসের বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। গত একমাস কর্মবিরতি পালন করা হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছিল। শ্রমিকদের পেটে খাবার নেই তাই তারা পরিচ্ছন্নতা কাজ বন্ধ রেখেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় নগর ভবনে গিয়ে দেখা গেছে শতাধিক নারী পরিচ্ছন্ন কর্মী নগর ভবনের প্রবেশ পথে বসে রয়েছেন। মেয়র কামালকে নগর ভবনে ঢুকতে বাধা দিতে তারা সেখানে বসেছেন। প্রধান ফটকে তালা মেরে বেতন বঞ্চিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগর ভবনের চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রীর সমমর্যাদা) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বিষয়টি সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ওই সূত্র জানায় বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের তিনি ইতোমধ্যেই ডেকে কথা বলেছেন। ঐ সূত্রের দাবি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ উদ্যোগ গ্রহণ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টির সুরাহা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, স্থায়ীদের ৬ মাসের বেতন ও ২৩ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অস্থায়ীদের ৩ মাসের বেতনের দাবিতে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন।

ইত্তেফাক/নূহু