রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ডিবি ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন ৩ মাস পর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপুর গ্রামে আসতে চেয়েছিলেন। ছেলের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগম। ছেলে ঠিকই এলো। কিন্তু জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
মঙ্গলবার তার বাড়িতে এই প্রতিনিধির কাছে কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ৩ মাস আগে ছেলে জালাল উদ্দিন বাড়িতে এসেছিল। কয়েকদিন থাকার পর ঢাকায় যাওয়ার আগে বলে, ৩ মাস পর আবার আসব। তিনি আরও বলেন, সবাই বেঁচে গেল আর আমার ছেলে মারা গেল। এ কষ্ট আমি আর ভুলতে পারছি না। মৃত্যুর খবরে কালীগঞ্জের ভোলপুর গ্রামে মানুষের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। হঠাৎ করেই মধ্যরাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তার বৃদ্ধা মা-সহ পরিবারটি।
ভোলপুর গ্রামের মৃত বিশারত মন্ডলের ৭ সন্তানের মধ্যে নিহত জালাল উদ্দিন ছিলেন পরিবারের ৩ নম্বর সন্তান। তারা ৫ ভাই ও দুই বোন। গ্রামের বাড়িতে যৌথ পরিবার হিসাবে অন্যান্য ভাইয়েরাও একসাথে বসবাস করে। কোন ভাবেই পরিবারটি মেনে নিতে পারছে না এই মৃত্যুর সংবাদ। মেজ ভাই আলাউদ্দিন বলেন, গ্রামে পাশের স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার পর পুলিশে যোগ দেয় তার ভাই। প্রমোশন পেয়ে ইন্সপেক্টর হয়েছিল। অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে জালাল উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন পরিবারটি।
উল্লেখ্য, সোমবার মধ্যরাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী রাজধানীর মধ্যপীরের বাগের একটি বাড়িতে অবস্থান করছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এসময় ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
ইত্তেফাক/এমআই