চট্টগ্রামে বাড়ছে কিশোর অপরাধ, ১৭৮ স্পট নজরদারিতে

যে বয়সে স্বপ্ন বোনার কথা ঠিক সে বয়সেই বন্দরনগরীর কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। একের পর এক অপরাধ করে নিজেদের ভবিষ্যত্ যেমন নষ্ট করছে, তেমনি পরিবারের শান্তি ও সুনাম বিনষ্ট করছে। চট্টগ্রামের পুলিশ এ সব কিশোরদের নজরে রাখতে আট থানায় ১৭৮টি আড্ডার স্থান শনাক্ত করেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, একটা সময় ছিল যখন মেধাবীরাই সবচেয়ে বেশি আড্ডাবাজ ছিল। আড্ডা থেকেই অনেক সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল কাজ হয়েছে। এখনো কিছু কিছু স্থানে এমন হলেও বিপরীত চিত্রও আমরা দেখছি, যা আসলেই ভয়ঙ্কর ব্যাপার।

কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসপার খুন ও ষোলশহরে পুলিশের উপর গুলি করার ঘটনার পর বন্দরনগরীতে কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের আড্ডার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পুলিশের দক্ষিণ জোনের কোতোয়ালি, সদরঘাট, চকবাজার ও বাকলিয়া থানা এলাকায় ৭৩টি আড্ডাস্থল চিহ্নিত করে পুলিশ। কিছুদিন আগে উত্তর জোনের পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামি, খুলশী, চান্দগাঁও থানা এলাকায় আরো ১০৫টি আড্ডার স্থান শনাক্ত করে পুলিশ।

সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, গুটিকয়েক স্থান ছাড়া বেশিরভাগ আড্ডাস্থলে মাদক সেবন, বেচাকেনা, উঠতি কিশোরদের নিয়ে বড় ভাইদের আড্ডা, ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের চর্চা হয়। এ ছাড়া অলিগলিতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় মারামারি, খুনাখুনি ঘটার পেছনে এ সব আড্ডার বিস্তর প্রভাব রয়েছে।

স্কুলছাত্র আদনান খুনের ঘটনায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সদ্য কৈশোর পার হওয়া মঈন আদালতে জানিয়েছে, চকবাজার থানার গণি বেকারির মোড় ও পাশের একটি রেস্তেরাঁয় তারা নিয়মিত আড্ডা দিত। ওই আড্ডাতেই আদনানের উপর হামলার বিষয়টি পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনামতো একদিন আড্ডা থেকে উঠে গিয়েই আদনানকে খুন করা হয়।

গত মাসে ২ নম্বর গেট এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে একদল কিশোর। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া কিশোর আয়মান জিহাদ পুলিশের কাছে স্বীকার করে, জুবায়ের নামে তাদের এক বন্ধুকে মারার জন্য স্টেডিয়াম সংলগ্ন হল টোয়েন্টিফোরের সামনে যাচ্ছিল তারা। জুবায়ের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র। আয়মানও একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হাকিম, প্রত্যয়, রাকিব এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর উত্তর জোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আড্ডা হয় খুলশী থানা এলাকায়। এখানে আড্ডার স্থান রয়েছে ৩৪টি। এ ছাড়া পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ৩৩টি, চান্দগাঁও এলাকায় ২৩টি ও বায়েজিদ এলাকায় ১৫টি আড্ডার স্থান রয়েছে। দক্ষিণ জোনের চার থানার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় ৩২টি, বাকলিয়া থানায় ৫টি, চকবাজার থানায় ১৪টি ও সদরঘাট থানায় ২২টি আড্ডার স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আবদুল ওয়ারিশ জানিয়েছেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে ছাত্ররা বাইরে আড্ডা দেয়। আড্ডার স্থান থেকে অধিকাংশ খুন, মাদক আর চাঁদাবাজির মতো ঘটনার জন্ম নেয়। এ ব্যাপারে অভিভাবক, শিক্ষকদের আরো সচেতন হওয়া উচিত। পুলিশ তার জায়গা থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু স্কুলেও আমরা গিয়েছি। প্রয়োজনে সন্দেহজনক আড্ডাস্থলে অভিযান চালানো হবে।

ইত্তেফাক/নূহু