ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মাইক্রোবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নজরুল ইসলাম মানিকগঞ্জ দুধবাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক। বুধবার সকালে মানিকগঞ্জ দুধবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ওই গৃহবধুর বাড়ি জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাসাইল গ্রামে। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা শহরের দুধবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের দোকানে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে নবীনগরে যাওয়ার কথা ছিল। এসময় নজরুল তাকে জানায়, সেও মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকার গাবতলী যাবে, তাকে নবিনগর নামিয়ে দিয়ে যাবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ব্যবসায়ী নজরুলের সাথে ওই গৃহবধু নবীনগর যাওয়ার জন্য রওনা দেন।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের জাগীরে ধলেশ্বরী এলাকা থেকে আরও তিনজন অজ্ঞাত লোককে নজরুল ইসলাম মাইক্রোবাসে তুলেন। ওই গৃহবধু মাইক্রোবাসে লোক উঠানোতে আপত্তি করলে একপর্যায়ে শরীরে থাকা ওড়না দিয়ে দু’হাত-পা বেঁধে ফেলে নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। গৃহবধু চিৎকার করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত নজরুলসহ আরো ৩ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে ওই গৃহবধুকে। এরপর রাতেই সাভার বাসস্ট্যান্ডের আগে পিএটিসি এলাকায় গৃহবধুৃকে হাত পা বেঁধে মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দিয়ে নজরুল ইসলামরা পালিয়ে যায়।
রাতে ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে পুলিশ উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করে। ওখান থেকে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।
নির্যাতিতা ওই গৃহবধু ২০১৭ সালের ২৬ মে মানিকগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ওই নারীর দাবি, সরকারি দলের এক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার সঙ্গে মূল আসামি নজরুলের সখ্যতা থাকায় পুলিশ আসামি নজরুলকে গ্রেফতার করেনি।
মামলার তদন্ত করেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো.আশফাক রাজিব হাসান। তিনি মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু বাদির চুড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দেন। আদালত নারাজি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান, আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হওয়ার পর পুলিশ আসামি নজরুল ইসলামকে বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু