নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে ভিন্ন মেরুর রাজনীতি শুরু হয়েছিল।তিনি বলেন, '২৫ মার্চের অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে নির্মম গণহত্যা শুরুর কারণেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন।' স্থানীয় সময় রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে গণহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সন্দীপ চক্রবর্তী।
সন্দীপ চক্রবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ২০১৭ সালে গণহত্যা দিবস পালনের যে প্রস্তাব পাশ করেছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সংঘটিত ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্বীকৃতি-দানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশে সংঘটিত ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাঙালিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আমন্ত্রিত অতিথিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।
অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ডেভিড নালিন, নিউইয়র্কে কসোভোর কনসাল জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত টেউটা সাহাতকুইজা, যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ম্যাক্সিম এ. পেন্সকি ও ড. নাদিয়া রুবাই, মূলধারার রাজনীতিক জেসিকা র্যামস, ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ অ্যালায়েন্সের সভাপতি লর্ড লিওমার বি. প্রম্পিরাডা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং জেনোসাইড-৭১ ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র-এর সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বক্তব্য দেন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। সমাপনী বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান।
ফ্রেন্ডস্ অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধু ডেভিড নালিন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে তার অবস্থানকালীন ভয়াবহ গণহত্যা নিজ চোখে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অবশ্যই সকলকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে হবে। বিশ্বে গণহত্যার যেন আর কোন পুনরাবৃত্তি না হয়। মিয়ানমার কর্তৃক সংঘটিত মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন ও গণহত্যার কথা তিনি উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে উদার মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
নিউইয়র্কে কসোভোর কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত টেউটা সাহাতকুইজা বলেন, এটি শুনতে আমাদের যেমনই লাগুক, অবশ্যই গণহত্যার সেই ভয়াবহ ঘটনাগুলোকে আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ম্যাক্সিম এ. পেন্সকি বলেন, গণহত্যা দিবস পালন শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয় এটি বিশ্বের সকল নাগরিকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বীভৎস কাহিনীকে সকলেরই মনে রাখা উচিত। গণহত্যা সংগঠনকারী কোন অবস্থায়ই আইনের থেকে পার পেতে পারেন না।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করেছেন। গণহত্যা ও নৃশংসতার মত জঘন্য অপরাধের আর ‘কখনোই, কখনোই এবং কখনোই যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে’ সেই লক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃঢ় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, নিরাপত্তার সাথে এবং পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
IMG0
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যার শিকার মানুষের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ইত্তেফাক/এসএস