তুরস্কে বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত সেমিনার অনুষ্ঠিত

সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা' শীর্ষক সেমিনার। আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং তুরস্কের অন্যতম বৃহৎ পরিকল্পিত অর্থনৈতিক এলাকা হাসিয়াড শিল্পাঞ্চল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে তুরস্কের ৫০টি কোম্পানীর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী তার বক্তব্যে উপস্থাপনায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এবং তার পিছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ভৌগলিক কৌশলগত গুরুত্ব, সাম্প্রতিক সময়ের আর্থ-সামাজিক অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের স্বীকৃতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মাঝে বিদ্যমান উষ্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের  জন্য উভয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে  বিদ্যমান বাণিজ্য বান্ধব পরিবেশের সুযোগ নেওয়ার জন্য তিনি তুর্কি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। এছাড়া, দূতাবাসের মিনিস্টার (রাজনৈতিক) মো. রইস হাসান সরোয়ার তার সমাপনি বক্তব্যে অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে বিনিয়োগ-সুবিধা ও প্রণোদনার আলোকে বাংলাদেশের অগ্রগামিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার খাতগুলো চিহ্নিত করেন।

হাসিয়াড পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের সভাপতি হুসানই বোজদা শিল্পাঞ্চলের সক্ষমতা ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি আসন্ন একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দল সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। তিনি এ উদ্দেশ্যে সংগঠিত হবার জন্য তাঁর সদস্যেদের প্রতি আহ্বান জানান। তুরস্কে এ বছর এই বিষয়ে একটি সেমিনার আয়োজনের বিষয়ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া, তুর্কী-বাংলাদেশ বিষয়ক ব্যবসা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজ্ লরা গোক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আশা করা যায় এই সেমিনার বাংলাদেশের দ্রুতবর্ধনশীল বাজার ও অর্থনীতির বিষয়ে তুরস্কের বে-সরকারি খাতের মনোযোগ আকর্ষনে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসার সাথে জড়িত দুজন তুর্কী ব্যবসায়ী তাঁদের অর্জিত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সকলের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অর্থনৈতিক অগ্রসরমানতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে ৩টি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, দূতাবাসের উদ্যোগে  সামনের দিনগুলোতে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শীর্ষক আরো সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে যা দু’দেশের বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিকাশে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। 

উল্লেখ্য, পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল তুরস্কের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল যেখানে অবস্থিত ছোট বড় ১৩৫ কোম্পানীতে প্রায় ৮০ হাজার কর্মী কাজ করছেন। তুরস্কের বার্ষিক ১৬০ বিলিয়ন বাণিজ্যের ৬ শতাংশে হাসিয়াডের অবদান রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি