গত জানুয়ারিতে শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল বল টেম্পারিং করেছে বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। বিবিসি স্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভন বলেন, ‘আমি প্রায় নিশ্চিত যে, অ্যাশেজ জুড়েই বল টেম্পারিং করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। তবে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের হারের এটিই প্রধান কারন নয়। ভালো খেলেই সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।’
দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিন বল টেম্পারিং করেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ক্যামেরন বেনক্রফট। ফিল্ডিং করার সময় হলুদ রঙের একটি কাগজজাতীয় বস্তু দিয়ে বলের উপর ঘষা দেন বেনক্রফট। তার এই কান্ড ধরে পড়ে মাঠের চারপাশে থাকা বিভিন্ন ক্যামেরায়। পরবর্তীতে দিনের খেলা শেষ হবার পর নিজেদের কু-কীর্তির কথা স্বীকার করেন বেনক্রফট ও সদ্যই অধিনায়ক হিসেবে সাবেক হয়ে যাওয়া স্টিভেন স্মিথ।
বল টেম্পারিং কথা স্বীকার করায় ইতোমধ্যে আইসিসি কর্তৃক ম্যাচ ফি’র শতভাগ জরিমানা ও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন স্মিথ। ম্যাচ ফি’র ৭৫ শতাংশ জরিমানা ও তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন বেনক্রফট।
বল টেম্পারিং করায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে এখন দুয়োধ্বনি শুনতে হচ্ছে ক্রিকেট জগতে। তবে এরইমাঝে অন্যরকম বক্তব্য দিলেন ইংল্যান্ডের ভন। তিনি বলেন, ‘অ্যাশেজে নিজেদের সেরা পারফরমেন্স দিয়েই সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আমার মনে হয়, সেখানেও কয়েকটি ম্যাচে বল টেম্পারিং করেছে তাদের বোলার ও ফিল্ডাররা। তাই ঐ সিরিজের ভিডিও ফুটেজ দেখে তা খতিয়ে দেখা উচিত। অ্যাশেজে কয়েকটি ম্যাচে মিড-অফ এবং মিড-অনের ফিল্ডারদের দিকে লক্ষ্য দিলেই বুঝতে পারা যেতে পারে কিছু ঘটেছিলো কিনা। নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করা যাচ্ছে না।’
কেপটাউনে যেভাবে বল টেম্পারিং করেছে অস্ট্রেলিয়া, এটি পূর্ব পরিকল্পিতই ছিলো বলে মনে করেন ভন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না মধ্যাহ্ন-বিরতির আগেই তারা বল টেম্পারিং করেছে। মধ্যাহ্ন-বিরতির সময় ভিডিওতে দেখা গেছে, বেনক্রফট চিনি হাতে নিয়ে তার ট্রাউজারের পকেটে ভরছে। বল টেম্পারিং করার পরিকল্পনা আগের থেকেই করে রেখেছিলো তারা। এছাড়া অধিনায়ক স্মিথ তো বলেছেই, সিনিয়ররা বল টেম্পারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।
১৭ বছর ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন ভন। তার এই ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলকে একেক সময় একেকভাবে বল টেম্পারিং করতে দেখেছেন বলে জানান ভন, ‘আমি ১৭ বছর ক্রিকেট খেলেছি। এসময় কোন দল বল টেম্পারিং করেনি বলে মনে হয় না। বল টেম্পোরিং-এর জন্য তারা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। কখনো বাউন্সের জন্য আবার কখনো-বা রিভার্স সুইং-এর জন্য। রুক্ষ হয়ে যাওয়া বল থেকেও অনেক বোলার বাউন্স আদায় করে নেয়। আবার কখনো মুখে মিষ্টি নিয়ে তা বলে লাগিয়েছে, আবার মুখের লালা বা চুইংগামের রসালো তরল পদার্থ বলের মধ্যে মেখেছে যাতে দীর্ঘক্ষণ বলের চকচকে ভাব থাকে।’
এখনই বল টেম্পারিং নিয়ে কঠোর আইন করার কথা জানালেন ভন, ‘অনেকেই বলবে তারা বল টেম্পারিং করেনি। কিন্তু বছরের পর বছর ক্রিকেটে এমনটাই হয়ে আসছে। তবে এটি এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করা উচিত। যদিও এটা নিয়ন্ত্রন করা আসলেই বেশ কঠিন।’
ইত্তেফাক/রেজা