হাজীগঞ্জে শিক্ষিকাকে মারধর

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিভাবক কমিটির (পিটিএ) সভাপতি খোরশেদ আলম ওরফে খোকা। সোমবার সকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। 
 
মারধরের শিকার শিক্ষিকার নাম আফরোজা শারমিন (২৫)। তিনি দোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. শাহজাহান, নাসরিন আক্তার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিদ্যালয়ে যান। 
 
স্থানীয় ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৬ মার্চ সকাল ১০টায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করার জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে শিক্ষক অভিভাবক (পিটিএ) কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম অফিস কক্ষে বসে সকল শিক্ষককে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে হবে বলে নির্দেশ দেন। এ কথা বলার পর আফরোজা বলেন, আমরা বক্তব্য দিতে জানি না, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শুধু প্রধান শিক্ষক বক্তব্য দিবেন। আফরোজার এ কথা শুনে খোরশেদ আলম মন্তব্য করেন এখনো জামায়াত শিবিরের লোকজন এখানে আছে। পরে তিনি ছাত্রছাত্রীদের সামনে ঐ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক বক্তব্য রাখেন। 
 
অনুষ্ঠান শেষে অফিস কক্ষে এসে খোরশেদ বসলে আফরোজা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খোরশেদ আফরোজাকে অফিস কক্ষে সকলের সামনে মারধর করেন। তিনি তাঁর মাথার হিজাব টেনে খুলে ফেলেন। এই অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার মানুষ বিদ্যালয়ে এসে জড়ো হন। তাঁরা খোরশেদ আলমের বিচার দাবি করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 
 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এটিইও মো. শাহজাহান ও নাসরিন আক্তারসহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক প্রতিকার চান। 
 
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, অফিস কক্ষে খোরশেদ আলম সবার সামনে আফরোজাকে চড় মেরেছে। এর আগেও খোরশেদ আলম স্থানীয় আরেকটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্চিত করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই ও উপযুক্ত প্রতিকার চাই।
 
ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন শিক্ষিকা আফরোজা শারমিন। মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ না করার জন্য। আমি এ বিষয়ে টিইও স্যার বরাবর লিখিত অভিযোগ করব।
 
অভিযুক্ত খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়েছে। ঘটনাটি মীমাংসা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ১৫ দিন আগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা পরিষদে চেয়াম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। 
 
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল বলেন, ঘটনা জানার পর বিদ্যালয়ে দুইজন এটিইওকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই