সাতকানিয়ায় ইটভাটার মাটি পড়ছে মহাসড়কে, বৃষ্টিতে ভোগান্তি

ইটভাটার জন্য পিকআপে করে মাটি নেয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মাটি বৃষ্টিতে ভিজে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ১ কিলোমিটারের মতো জায়গা পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। ফলে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানগামী অ্যাম্বুলেন্সসহ কয়েকশ' যানবাহন আটকা পড়ে।
 
গতকাল সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা যানবাহন চলতে না পারায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অফিস-আদালতগামী ও হাজার হাজার দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ লোকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মহাসড়কে মাটি পড়লেও ভয়ে তাদের কেউ কিছু বলতে সাহস করে না।
 
জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে কেরানীহাট থেকে মৌলভীর দোকান পর্যন্ত ইটভাটার মাটির যোগান দেওয়ার  সিন্ডিকেট তৈরি করে মাটি কাঁটা শুরু করে এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। মাটিগুলো কেটে পিকআপে করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কে প্রতিদিন মাটি পড়তে পড়তে ১ইঞ্চি পরিমাণ পুরু হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বললেও তারা কোন কথায় কর্ণপাত করেনি।
 
তবে, গত কয়েকদিন আগে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান মাটি ব্যবসায়ীদের নিয়ে মহাসড়কের কিছু অংশ পরিষ্কার করে। কিন্তু মাটি নেয়া অব্যাহত থাকায় আবারও মহাসড়কে মাটি পড়ে। শুষ্ক মৌসুম থাকায় বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু সর্বশেষ গতকাল সকাল ৭টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। ফলে মহাসড়কে পড়ে থাকা মাটিগুলো ভিজে গেলে মহাসড়ক হয়ে উঠে কাদাময় ও পিচ্ছিল। এ কারণে সকাল ৭টা থেকে পিচ্ছিল মহাসড়ক যানবাহন ও সাধারণ লোকদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে যানবাহন আটকা পড়ে অফিস-আদালত ও সাধারণ লোকদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায। এছাড়া পিচ্ছিল সড়কে কয়েকটি গাড়ি আঁকা-বাঁকা ও কয়েকটি মোটর মহাসড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
 
এব্যাপারে মারসা পরিবহনের চালক মো. জসিম উদ্দীন বলেন, আমি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলাম। বাসটি নয়াখালের মুখ নামক স্থানে পৌঁছুলে মহাসড়ক কাঁদায় পূর্ণ থাকায় দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।
 
বাসের যাত্রী খোরশেদ আলম সিকদার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন মাটি বিক্রেতাদের আগে সতর্ক করলে এরকম ঘটনা ঘটতো না। এজন্য স্থানীয় প্রশাসনই দায়ী। মনে হয় প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে তারা সাহস করে মাটি কাটতে কাউকে তোয়াক্কা করছে না।
 
মাটি ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, এর আগে হাইওয়ে পুলিশ ও মাটি ব্যবসায়ীরা মিলে মহাসড়ক পরিষ্কার করেছিল। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে। সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদুল আলম বলেন, 'আমরা টাকা দিয়ে মাটি কিনি। সামাজিক দায়বদ্ধতার খাতিরে মহাসড়ক পরিষ্কার রাখার জন্য মাটি ব্যবসায়ীদের অনেকবার বলেছি।'
 
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাটি ব্যবসায়ীদের নিয়ে কিছুদিন আগে মহাসড়ক পরিষ্কার করেছিলাম। তাদের বলেছি যেন, মহাসড়ক পরিষ্কার থাকে। কিন্তু গাফেলতি করে মহাসড়কে মাটি রেখে দেওয়ায় বৃষ্টি পড়ে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলতে না পারায় গতকাল সকাল থেকে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার মতো মহাসড়কে যানজট ছিল। পরে মহাসড়ক পরিষ্কার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
 
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, 'বিষয়টি শুনে আমি ইটভাটার মালিক, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানার ওসিকে বলেছি গাড়ি চলাচলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।'
 
ইত্তেফাক/এসএস