মঠবাড়িয়ার অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার উন্নত চিকিত্সা মিলছে না

মঠবাড়িয়ার চালিতাবুনিয়া গ্রামের অসহায় মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম মোস্তফা হাওলাদার দেশ স্বাধীনের জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করলেও নিজেই এখন জীবনযুদ্ধে হারতে বসেছেন। দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তার দুই পা এখন অচল।

চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার হাঁটুর জয়েন্টে অপারেশন দরকার। কিন্তু এ অপারেশন করার মত ন্যূনতম অর্থ তার নেই। প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে সাহায্যের আবেদনও করেছিলেন দরিদ্র এ মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু চিকিত্সা সহায়তা না মেলায় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা নিভৃত পল্লীতে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন।

মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৭১ সালে তিনি ক্যাপ্টেন মেহেদী আল ইমামের নেতৃত্বে পটুয়াখালী সাব-সেক্টর উপকূলীয় বরগুনার বামনা ও বেতাগীর বিষখালী নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।  তিনি ২০০৫ সালের ১৪ মে গেজেটভুক্ত হন। তার মুক্তিযোদ্ধা সদন নম্বর-৮৩৭৮৬, গেজেট নম্বর- ৯৭৩ ও তার মুক্তিবার্তা নম্বর-০৬০৫০৬০৫৯৩। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কৃষি কাজ ও বর্গা জমি আবাদ করে জীবিকানির্বাহ করেন। কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল মোস্তফাকে বর্তমানে চার সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতে হয়। এমন অবস্থার মধ্যে ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফার দুই হাঁটুর জয়েন্টে (হিপ জয়েন্ট) ক্যালসিয়াম শুকিয়ে গেলে তার স্বাভাবিক হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ তিনি ঢাকায় অ্যাপোলো হাসপাতালের অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. প্রশান্ত আগরওয়ালের চিকিত্সা নেন। চিকিত্সক জানান, তার দুই পায়ের হিপ জয়েন্টে অপারেশন লাগবে। এর আগে চিকিত্সার ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি ব্যাংক ও আত্মীয়-স্বজন মিলিয়ে দেড় লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি চিকিত্সা ও বাঁচার আকুতি জানিয়ে মৃত্যুর আগে অন্তত এক মুহূর্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমাণ্ডার মো. বাচ্চু মিয়া আকন জানান, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। তার উন্নত চিকিত্সার জন্য অর্থের প্রয়োজন।

মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফার সাথে যোগাযোগ-মোবাইল নম্বর-০১৭৪১৪২৫৪০২, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর- ৫৯৪, অগ্রণী ব্যাংক মিরুখালী ইউনিয়ন শাখা, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।

ইত্তেফাক/নূহু